শাহ আবদুল করিমের আজ মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

সমকাল প্রতিবেদক ও সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

একুশে পদকপ্রাপ্ত বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৯ সালের আজকের এই দিনে ৯৩ বছর বয়সে মারা যান তিনি। ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন গুণী এই ব্যক্তি। আমৃত্যু তিনি ওই গ্রামেই ছিলেন। প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে তার উজানধলের সমাধি ও বাড়ি ঘিরে জড়ো হয়েছেন অসংখ্য ভক্ত। বাড়িতে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল, স্মরণসভা এবং রাতভর বাউল করিমের গানের আয়োজন করা হয়েছে।

শাহ আবদুল করিম জীবনভর তার গানে অবহেলিত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির কথা বলে গেছেন। তার গানে যেমন প্রেম-বিরহ ছিল, তেমনি ছিল খেটে খাওয়া মানুষের কথা। একই সঙ্গে আধ্যাত্মিক ভাবনাও রয়েছে তার সৃষ্টিকর্মের বিশাল অংশজুড়ে। অভাব-অনটন, দুঃখ-দারিদ্র্যে বেড়ে ওঠা বাউল করিমের বয়স যখন ১২, রাখালের চাকরি ছেড়ে পার্শ্ববর্তী ধলবাজারের এক মুদি

দোকানে কাজ নেন। দিনে চাকরি আর রাতে হাওর-বাঁওড় ঘুরে গান গাইতেন। ওই সময় গ্রামের নৈশবিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও পড়াশোনা হয়নি করিমের। গ্রামের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বাউল, ভাটিয়ালি, পালাগান গাইতেন তিনি। পুরো ভাটি এলাকায় নাম ছড়াতে থাকে তার। এরপর বিভিন্ন আন্দোলনে গণসঙ্গীত গেয়ে মানুষকে উজ্জীবিত করেন তিনি।

তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি দু'দিনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বাউলের দিরাই উপজেলার উজানধলের গ্রামের বাড়িতে সন্ধ্যায় আলোচনা সভা হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ।

এ ছাড়া গতকাল মঙ্গলবার ছিল শাহ আবদুল করিম রচিত গানের প্রতিযোগিতা। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাসনরাজা মিলনায়তনে শহরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের শতাধিক প্রতিযোগী এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।

প্রতিযোগিতার আগে বাউল সম্রাটের সৃষ্টিকর্ম নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন- জেলা শিল্পকলা একাডেমির যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট দেবদাস চৌধুরী রঞ্জন, জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী পাভেল, জেলা শিল্পকলা একাডেমির কার্যকরী কমিটির সদস্য অরুণ তালুকদার, বাউল শাহজাহান, সুনামগঞ্জ কালচারাল ফোরামের সভাপতি সোহেল রানা প্রমুখ।