কেন্দ্রের চিঠিতে সিলেট আ'লীগে তোলপাড়

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

চয়ন চৌধুরী, সিলেট

সিলেট আওয়ামী লীগের শোকজ পাওয়া নেতারা কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র, আত্মঘাতী বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে পরাজয়ের পর দলীয় প্রার্থীসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে চারজনকে চিঠি দিয়ে জবাব চাওয়া হয়েছে। এই চিঠিকে চারজনই সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার অংশ বলে দাবি করেছেন। এদের মধ্যে তিনজন পরাজয়ের ব্যর্থতা স্বীকার করলেও ব্যক্তিগত দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। শোকজের চিঠি হাতে পাওয়ার পর তারা লিখিত জবাব দেবেন বলে জানিয়েছেন। এ নিয়ে সিলেট আওয়ামী লীগে তোলপাড় চলছে।

গত ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান ছয় হাজার ২০১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। জাতীয় নির্বাচনের কয়েক মাস আগে এই পরাজয়ের নেপথ্যে সাংগঠনিক ব্যর্থতার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিষয়টি সামনে আসে। গত ৩০ আগস্ট কেন্দ্রীয় নেতারা সফরে এসে অভিযুক্তদের মৌখিকভাবে সতর্ক করে দেওয়ার পর গত সোমবার মেয়র প্রার্থীসহ চার নেতার কাছে জবাব চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠি পাওয়া অপর তিনজন হলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন  সিরাজ, সিলেট মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ ও সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কেন্দ্রের চিঠি হাতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিলেট মহানগর সভাপতি কামরান। কামরানের কাছে স্থানীয় নেতাদের বিরোধিতার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে বলে সূত্র জানায়। তিনি সমকালকে বলেন, তাকে শোকজ করা হয়নি। সাংগঠনিক কিছু বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তার মধ্যে সিটি নির্বাচনে পরাজয়, সাতটি ওয়ার্ডে দলীয় কাউন্সিলর প্রার্থী না থাকা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয় না থাকার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট সিলেট সার্কিট হাউসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠককালে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। মেয়র পদে দলের নেতাদের বিরোধিতার কারণও জানতে চাওয়া হয়েছে কামরানের কাছে।

মেয়র পদে দলের মনোনয়নবঞ্চিত আসাদ উদ্দিন আহমদ পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার কর্মকাণ্ড বিতর্কিত ছিল বলে অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে তার কাছে লিখিত জবাব চাওয়া হয়েছে। আসাদ বলেছেন, দলীয় প্রার্থীর পরাজয়ের দায় থাকলে অবশ্যই নিতে হবে। কিন্তু কোনো ধরনের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। নিজের বিবেকের কাছে সৎ ছিলাম এবং আছি। তাই এই চিঠিকে ইতিবাচকভাবেই নিচ্ছি।

নাদেল বলেন, মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পরাজয়ের দায় অবশ্যই নিতে প্রস্তুত আছি। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে দলীয় মেয়র প্রার্থীর বিরোধিতা করার তো কোনো কারণ নেই। মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশীও ছিলাম না। তার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই ভালো। সাংগঠনিকভাবেও তার সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে। এটা তিনি নিজেও স্বীকার করবেন আশা করি। সবমিলে কেন্দ্রের চিঠিকে ইতিবাচক হিসেবে নিলেও নিজের বিস্ময় আড়ালের চেষ্টা করেননি তিনি।

সিলেট সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ছিলেন সিরাজ। এই দায়িত্ব পালনে বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগে কেন্দ্রের চিঠি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দল যে কোনো সময় যে কাউকে শোকজ করতে পারে; এটা সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। মেয়র প্রার্থীর পরাজয় সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের ত্রুটি থাকতে পারে; কিন্তু আত্মঘাতী কোনো কর্মকাণ্ড কেউ করেনি। তিনি বলেন, সিলেটে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা থাকতে পারে। কিন্তু কোনো সময়ই আত্মঘাতী কিছু ছিল না, এখনও নেই। তিনি বলেন, চিঠি এলে হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত করে তারপর খুলব।
উত্তাপের সঙ্গে মিশে আছে উত্তেজনাও

উত্তাপের সঙ্গে মিশে আছে উত্তেজনাও

সারাদেশের ৩০০ নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ঢাকা-১ আসন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। ঢাকা ...

সরব এশিয়া-ইউরোপ

সরব এশিয়া-ইউরোপ

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গণহত্যা ও নৃশংসতায় বিক্ষুব্ধ হয়ে ইউরোপ ও এশিয়ার ...

তারাই আমাদের বাতিঘর

তারাই আমাদের বাতিঘর

আবার এসেছে ফিরে ডিসেম্বর। শোক, শক্তি ও সাহসের মাস, আমাদের ...

মর্মন্তুদ সেই দিন আজ

মর্মন্তুদ সেই দিন আজ

'আজ এই ঘোর রক্ত গোধূলিতে দাঁড়িয়ে/ আমি অভিশাপ দিচ্ছি তাদের/ ...

রাজনীতিবিদরা কি হারিয়ে যাবেন

রাজনীতিবিদরা কি হারিয়ে যাবেন

পরিসংখ্যান অনেক সময় নির্মম, যেমন পানিতে ডুবে মারা যাওয়া শিশুদের, ...

ব্যবসায়ীদের হাতেই এখন নাটাই

ব্যবসায়ীদের হাতেই এখন নাটাই

গত ৬ অক্টোবর ২০১৮ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মহামান্য ...

নির্বাচন উদ্দীপনার নাকি আশঙ্কার

নির্বাচন উদ্দীপনার নাকি আশঙ্কার

২০১৪ সালে যেমন কোনো বিকল্প ছিল না, এই ২০১৮-তেও তেমনি ...

তোমার আমার মার্কা...

তোমার আমার মার্কা...

বিষণ্ণ মনে সোফায় বসে পেপার পড়ছিলেন বাবা। ক্লাস নাইনে পড়া ...