বিএনপিকে মোহাম্মদ নাসিম

নির্বাচন ঠেকানোর চিন্তা বাদ দিয়ে প্রস্তুতি নিন

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

সমকাল প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বিএনপি নেতাদের নির্বাচন ঠেকানোর চিন্তা বাদ দিয়ে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে তারা নির্বাচনে অংশ নেবেন না, এমনকি যে কোনো মূল্যে নির্বাচনও হতে দেবেন না। এ ধরনের বক্তব্য অগণতান্ত্রিক এবং অসাংবিধানিক।

গতকাল বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় নাক কান গলা (ইএনটি) ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে প্রতিবন্ধী শিশুদের মধ্যে কানের কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট ডিভাইস বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ করে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আপনাদের স্পষ্ট করে বলতে চাই- সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগকে নির্বাচন ঠেকানোর হুমকি দিয়ে লাভ নেই। আপনারা অতীতেও নির্বাচন ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন, পারেননি এবং ভবিষ্যতেও পারবেন না। তাই ঠেকানোর চিন্তা বাদ দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিন।

দীর্ঘদিন ক্ষমতায় না থাকলে দেশের উন্নয়ন হয় না উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১০ বছর দেশ পরিচালনার সুফল মানুষ পেতে শুরু করেছে। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের অনেক দেশে একটানা সরকার পরিচালনা করে উন্নতির শিখরে পৌঁছেছে তারা। বাংলাদেশকে উন্নয়নের শিখরে পৌঁছানোর জন্য শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় যেতে হবে। তাহলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার জনগণের দোরগোড়ায় যে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছে, দরিদ্র মানুষের মধ্যে এই কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট ডিভাইস বিতরণ তার প্রমাণ। আগামীতে এ সেবা আরও সম্প্রসারণ করা হবে।

অনুষ্ঠানে দরিদ্র ১২ শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশুর হাতে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট ডিভাইস তুলে দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ইএনটি হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জিল্লার রহমান, বিএসএমএমইউর সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, অডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মানস রঞ্জন চক্রবর্তী প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রকারভেদে একেকটি ডিভাইসের মূল্য নয় থেকে ১৭ লাখ টাকা পর্যন্ত পড়বে। এ ছাড়া সার্জারিসহ আরও প্রায় ৫০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা এতদিন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ছিল। কিন্তু চলতি অর্থবছরে সরকার ৪০টি ডিভাইস বরাদ্দ দিয়েছে।