প্রতিশ্রুতির ছয় বছর পর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) আট একর জমিতে আইটি পার্ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষর হয়েছে কুয়েটের। গত বছরের নভেম্বর থেকে প্রথম পর্যায়ে চারটি প্যাকেজের মাধ্যমে শুরু হয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ। অন্যান্য প্যাকেজের কাজ চলতি বছর শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাঝ পর্যায়ে এসে বলা হচ্ছে, কুয়েটের ওই জমিতে হাইটেক পার্ক হবে না। এ জন্য নতুন করে জমি খুঁজতে হবে। এরই মধ্যে বন্ধ ঘোষিত দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির ভেতরে সাড়ে তিন একর জমি বন্দোবস্ত চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। তবে কুয়েটের ওই জমিতে নির্মাণাধীন ইনকিউবেশন ও ট্রেনিং সেন্টারের কাজ যথাসময়ে শেষ হবে এবং সেন্টারটি চালু হবে বলে জানা গেছে।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, এখন নতুন করে জমি বন্দোবস্ত, প্রকল্প তৈরি ও অনুমোদন এবং অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু করতে অনেক সময় লাগবে। ফলে আবারও দীর্ঘসূত্রতার কবলে পড়তে যাচ্ছে খুলনার মানুষের কাঙ্ক্ষিত আইটি পার্ক প্রকল্প। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ এখানকার নাগরিক নেতারা।

২০১১ সালের ২৫ মার্চ খালিশপুরে এক জনসভায় খুলনায় একটি আইটি পার্ক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১১ সালের ২১ ডিসেম্বর নগরীর শিরোমনি এলাকায় আইটি ভিলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু। কিন্তু জমিস্বল্পতার কথা বলে সেখানে আর আইটি পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পরবর্তী সময়ে কুয়েটের আট একর জমিতে এই পার্ক নির্মাণের বিষয়ে ২০১৬ সালের ১৫ নভেম্বর কুয়েটের সঙ্গে হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ভূমি উন্নয়ন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, অ্যাপ্রোচ সড়ক ও সড়কবাতি নির্মাণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়।

সম্প্রতি কুয়েটে গিয়ে দেখা গেছে, সড়ক ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। পাঁচতলা ইনকিউবেশন কাম ট্রেনিং সেন্টারের প্রথম তলার কাজও শেষ হয়েছে। এতে প্রায় ২১ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। বর্তমান গতিতে কাজ চললে আগামী বছরের মার্চ বা এপ্রিলে এ কাজ শেষ হবে। মূলত ট্রেনিং সেন্টারটি নির্মাণের পরেই অন্যান্য অবকাঠামোর কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কুয়েটে আইটি পার্ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত বাতিল করায় অন্যান্য স্থাপনা আর হবে না। এ ব্যাপারে কুয়েটে আইটি পার্ক নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক শফিকুল ইসলাম

সমকালকে বলেন, আপাতত ৬২ হাজার বর্গফুটের পাঁচতলা একটি আইসিটি ইনকিউবেশন ও ট্রেনিং সেন্টার ভবন নির্মাণ করা হবে। এই ভবন নির্মাণ করেই এ প্রকল্প এখানেই শেষ হয়ে যাবে। হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে এটি পরিচালিত হবে। কুয়েটের

শিক্ষার্থীরা এখান থেকে সেবা নিতে পারবে। আর পূর্ণাঙ্গ আইটি পার্ক নির্মাণের জন্য খুলনা নগরীর অপর অংশে জমি দেখা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ১২ আইটি পার্ক নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় পূর্ণাঙ্গ আইটি পার্কটি নির্মাণ করা হবে।

জেলা পর্যায়ে আইটি পার্ক নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক সৈয়দ মেহেদী হাসান বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন। প্রকল্পের সহকারী পরিচালক শফিক উদ্দিন ভূইয়া সমকালকে বলেন, আইটি পার্কে বিশাল কর্মযজ্ঞ হবে। ওই পার্ককে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় নতুন উপশহর তৈরি হবে। এসব কথা মাথায় রেখে নগরীর একটি প্রান্তে সহজে যোগাযোগ করা যায়- এমন জমিতে পার্কটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ইনকিউবেশন ও ট্রেনিং সেন্টার এবং মূল আইটি পার্ক দুটি ভিন্ন বিষয়। দুটি স্থাপনা শহরের দুটি স্থানেই হওয়া সুবিধাজনক হবে। এরই মধ্যে খুলনার দাদা ম্যাচের জমিতে পার্ক নির্মাণের বিষয়ে জমি বন্দোবস্ত চাওয়া হয়েছে।

বিষয়টি স্বীকার করে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম সমকালকে বলেন, দাদা ম্যাচের সাড়ে তিন একরের মতো জমি হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ বন্দোবস্ত চেয়েছে। বিষয়টি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে আর কিছু জানানো হয়নি।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান সমকালকে বলেন, খুলনা ও যশোরের আইটি পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর একসঙ্গে করা হয়েছে। যশোরের পার্ক এখন দৃশ্যমান, কিন্তু খুলনারটির কোনো খবরই নেই। তিনি বলেন, শুরু থেকেই সঠিক স্থান নির্বাচন করা হলে এতদিন পার্ক নির্মাণ কাজ শেষ হতো। সিদ্ধান্তহীনতার কারণে প্রকল্পের ভবিষ্যৎই অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিকল্প জমিতে দ্রুত কাজ শুরুর দাবি জানান তিনি।





মন্তব্য করুন