অবশেষে গ্রেফতার উত্তরপত্র জালিয়াতির হোতা মিলন

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০১৯

নাটোর প্রতিনিধি

কয়েকদিনের টানা পর্যবেক্ষণের পর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার উত্তরপত্র জালিয়াতির হোতা মাহমুদুন্নবী মিলনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি নাটোর শহরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বিভাগীয় প্রধান বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান টুটুলের দাবি, আটকের তিন দিন আগে ওই শিক্ষককে প্রতিষ্ঠান থেকে বহিস্কার করেছে তারা।

গত বুধবার অভিযানে অংশ দেওয়া আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পুরো বিষয়টি জানা যায়। তারা জানান, শিক্ষক মিলন মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার উত্তরপত্র জালিয়াতি করেন এমন তথ্য তাদের কাছে ছিল। প্রায় দেড় বছর ধরে কারিগরি বোর্ডের বিভিন্ন বিষয়ের উত্তরপত্র তিনি প্রতিস্থাপন করে আসছেন। নাটোর শহরের বলারীপাড়ার আবদুল হামিদের বাড়িতে ভাড়াটিয়া থেকে এ কাজ করছিলেন তিনি।

গত মঙ্গলবার রাতে বাড়িতে শিক্ষক মিলনের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে আশপাশে অবস্থান নেয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযান শুরু করে পুলিশ। অভিযানের আগে বাড়ির প্রবেশমুখের দুটি রাস্তায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিলে বিষয়টি আঁচ করতে পেরে বিকল্প রাস্তায় বাড়ি থেকে বের হয়ে যান মিলন। মূল রাস্তায় এলে তার হাতে থাকা ব্যাগে তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার বাড়িতে পরীক্ষার উত্তরপত্র আছে এমন চ্যালেঞ্জ করে সেখানে অভিযান

চালানো হয়।

বাড়িতে ঢুকে বেডরুমের স্টিলের আলমারি থেকে ওএমআর শিট পূরণ করা ১৩টি ও পূরণ ছাড়া ৩৫৮টিসহ মোট ৩৭১টি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের খাতা, বিভিন্ন পরীক্ষার্থীর ১৩টি প্রবেশপত্রের মূলকপি ও তাদের সঙ্গে যোগাযোগে ব্যবহূত একটি মোবাইল সেট উদ্ধার করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। উত্তরপত্রগুলো কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের প্রোগ্রামিং ইন সি (৬৬৫৯) বিষয়ের।

অভিযানে অংশ নেওয়া এক সদস্য জানান, তাদের জিম্মায় নেওয়ার পরপরই শিক্ষককে ফোন করতে থাকেন পরীক্ষার্থীরা। ফোন কলগুলো রিসিভ করে জানা যায়, প্রতি বিষয়ের পরীক্ষার জন্য ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে নিতেন শিক্ষক মিলন।

বুধবার রাতেই উত্তরপত্র জালিয়াতি চক্রের হোতা মিলনের বিরুদ্ধে নাটোর সদর থানায় মামলা করেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মর্তুজা খান।

নাটোর সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আবু সিদ্দিক মামলাটির তদন্ত করছেন। তিনি বলেন, শিক্ষক মিলন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উত্তরপত্র জালিয়াতির কথা স্বীকার করেছেন।