জড়িতদের ফাঁসি চেয়ে মানববন্ধন

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর ডেমরায় দুই শিশুকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস

ক্লাবের সামনে, কোনাপাড়া বাসস্ট্যান্ড ও ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় মানববন্ধন থেকে তারা এ দাবি জানান। এ সময় মামলাটি দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

মানববন্ধন আয়োজকদের একজন মিজানুর রহমান সৌরভ সমকালকে বলেন, নৃশংস এ ঘটনায় দায়ী গোলাম মোস্তফা ও আজিজুল বাওয়ানীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অপরাধ করার সাহস না পায়। এ দাবিতেই তারা প্রথমে সকাল ১০টায় কোনাপাড়া বাসস্ট্যান্ডে মানববন্ধন করেন। ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায়ও মানববন্ধন করেন কিছু তরুণ। পরে তারা জানতে পারেন এলাকাবাসীসহ কিছু মানুষ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমবেত হয়েছেন। তখন তারা সবাই প্রেস ক্লাবের সামনে এসে আবারও মানববন্ধন করেন। দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে তাদের কর্মসূচি।

আন্দোলনকারীরা জানান, ডেমরার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয় দুটি ওয়ার্ডের জনপ্রতিনিধিরা মানববন্ধনে অংশ নেন। সবাই শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে একটিই

দাবি তুলেছেন, তা হলো গ্রেফতার দু'জনের যেন ফাঁসি নিশ্চিত করা হয়।

হত্যার শিকার দোলার মা পার?ভীন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, 'সোনাপাখিটার ফুটফুটে চেহারা না দেইখা, ওর মুখে মা ডাক না শুইনা কেমনে তিন দিন বাঁইচা আছি! এই বাঁচার কোনো মানে নাই।... দুই খুনির হাত দুইটা কুচি কুচি করে কাটুক। এক্ষুণি কুলাঙ্গারদের ফাঁসিতে ঝোলাক। মেয়েরে যে এইভাবে মারছে, তার এই দুনিয়ায় বাঁচার অধিকার নাই।'

তিনি জানান, ঘটনার দিনই তার মেয়েকে কোনাপাড়া স্কুলে ভর্তি করা হয়। সে স্কুল থেকে ফিরে বাসার সামনের রাস্তায় নুসরাতের সঙ্গে খেলছিল। তাদের লিপস্টিক দিয়ে সাজানোর কথা বলে বাসায় নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় মোস্তফা ও আজিজুল।

তদন্ত সূত্র জানায়, সেদিন দোলাকে গলাটিপে হত্যা করে মোস্তফা। আর আজিজুল গামছা দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে নুসরাতকে হত্যা করে। পরে লাশ দুটি খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে তারা। ঘটনার পর আজিজুল পালিয়ে গেলেও মোস্তফা ঘরেই থাকে।

পুলিশের ডেমরা জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় গ্রেফতার দু'জন, মোস্তফার স্ত্রী আঁখি ও তার ভাই নূর হোসেন বুধবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। পরে দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত সোমবার ডেমরার কোনাপাড়ায় বাসার সামনে খেলছিল পাঁচ বছর বয়সী দোলা ও প্রতিবেশী সাড়ে চার বছরের নুসরাত। পরে আর শিশু দুটির খোঁজ মিলছিল না। তাদের সন্ধান চেয়ে এলাকায় মাইকিংয়ের পর স্থানীয় তরুণরা ফেসবুকেও শিশু দুটির ছবি দিয়ে সন্ধান চায়। রাত ৯টার দিকে প্রতিবেশী গার্মেন্ট কর্মী গোলাম মোস্তফার ফ্ল্যাটের সামনে শিশু দুটির স্যান্ডেল পাওয়া যায়। এরপর স্থানীয়রা ওই বাসায় তল্লাশি চালিয়ে খাটের নিচে দোলা ও নুসরাতের লাশ পায়।