জবি ও বরিশালে ছাত্রলীগের দু'পক্ষে সংঘর্ষ, আহত ১২

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০১৯

বরিশাল ব্যুরো ও জবি প্রতিবেদক

জবি ও বরিশালে ছাত্রলীগের দু'পক্ষে সংঘর্ষ, আহত ১২

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো নিয়ে বৃহস্পতিবার বরিশাল নগরীর সদর রোডে আওয়ামী লীগ কার্যালয় চত্বরে মারামারিতে জড়ায় ছাত্রলীগের দু'পক্ষ সমকাল

ফেসবুকে ছবি পোস্ট দেওয়া নিয়ে কথাকাটাকাটির জেরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রলীগের দু'গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১০ জন আহত হন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে, বরিশালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানোর সময় ছাত্রলীগের দু'পক্ষে মারামারির ঘটনায় দু'জন আহত হয়েছেন। জবির ঘটনায় আহত ১০ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সুমনা ক্লিনিক এবং বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, বুধবার রাতে জবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল

আবেদিন রাসেলের গ্রুপের কর্মীরা সভাপতি তরিকুল ইসলামের ছবি ফেসবুকে পোস্ট দেয়। এরপর সভাপতি গ্রুপের কর্মীরাও এর বিপক্ষে ফেসবুকে পোস্ট ও কমেন্টে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। গতকাল সকালে সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে ক্যাম্পাসের ভাস্কর্য চত্বরে এলে সাধারণ সম্পাদকের কর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। এ সময় সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মী সালমান এফ রহমান, অভি, শান্ত, অর্পণ সান, তানভীরসহ কয়েকজন সভাপতি গ্রুপের কর্মী শাহরিয়ার শাকিল, রনি ও জিয়াদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়।

এরপর সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকলে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরে সভাপতি গ্রুপের কর্মী মিনুন মাহফুজ, শাহরুখ শোভনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীদের ওপর হামলা করে। এ সময় সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপের কর্মী সাজ্জাদ এহসান, এ কে এম পারভেজ, নূরে আলম, নিয়াজ হৃদয় সভাপতি গ্রুপের কর্মী সোহান নাহিদ, নাফিজসহ কয়েকজন আহত হয়। দুপুর ১২টার দিকে সাধারণ সম্পাদকের কিছু কর্মী শহীদ মিনারের পাশে অবস্থান নিলে সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা তাদের ওপর আবার হামলা চালায়। সংঘর্ষের সময় সভাপতি গ্রুপের কর্মী শাহরুল ইসলাম উম্মে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপের এক নারী কর্মীকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করে ও হুমকি দেয়।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতরা ছাত্রলীগের কেউ নয়, এরা অধিকাংশ অপরিচিত। ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার জন্য তারা এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটাচ্ছে।

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল বলেন, সংঘর্ষে জড়িতরা ছাত্রলীগের কেউ নয়, জাতীয় নির্বাচনের সময়ও এদের আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান ছিল না। এরা মূলত ক্যাম্পাসকে বারবার অস্থিতিশীল করতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নূর মোহাম্মদ বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে একটু সংঘর্ষ হয়েছে। আবার উভয় পক্ষ ভুল বুঝতে পেরে মীমাংসাও করে ফেলেছে। এখন ক্যাম্পাস পুরোপুরি শান্ত।

এদিকে, বরিশালে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো নিয়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সদর রোডে আওয়ামী লীগ কার্যালয় চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর অস্থায়ী প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানোর সময় আগে যাওয়া নিয়ে এ মারামারির সূত্রপাত হয়।

এতে আহত দু'জন হলেন মহানগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাইফুল সেরনিয়াবাত ও বিএম কলেজের ছাত্রলীগ কর্মী ওবায়দুল সেরনিয়াবাত। তারা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাকের অনুসারী বলে জানা গেছে। জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব হোসেন খান ও পদহীন ছাত্রলীগ নেতা রইছ আহম্মেদ মান্নার সঙ্গে আহত দুই ছাত্রলীগ নেতার মারামারি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে।

পরে সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ বিষয় জানতে উভয় গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক বলেন, 'শ্রদ্ধা জানানোর পর আমি ঘটনাস্থল থেকে চলে আসি। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে মারামারি হয়েছে কি-না, জানি না।'