নাগরিকত্ব বিলের বিরোধিতা

বিক্ষোভ সংঘর্ষ ধরপাকড়ে উত্তাল আসাম

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০১৯

সমকাল ডেস্ক

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিতর্কিত নাগরিকত্ব বিল বাতিলের দাবিতে আজ শুক্রবার উত্তর-পূর্বের রাজ্য আসামে বন্‌ধ ডেকেছে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর যৌথ মঞ্চ। এ ইস্যুতে গতকাল বৃহস্পতিবারও দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ, অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও ধরপাকড়ে উত্তাল ছিল পুরো রাজ্য। এদিন আসামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাসও বয়কট করেছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন শিক্ষক, আইনজীবী, চিকিৎসক ও বুদ্ধিজীবীরা। বিক্ষোভে শামিল হওয়ায় আটক হয়েছেন বুদ্ধিজীবী হীরেন গোহাঁই, সমাজকর্মী অখিল গগৈ এবং প্রবীণ সাংবাদিক মনজিত মহন্ত। এর আগে ওই বিলের বিরোধিতা করে পদত্যাগ করেছেন রাজ্যসভায়

বিজেপির শরিক আসাম গণপরিষদের তিন মন্ত্রী। এ পরিস্থিতিতে বেশ বিপাকে পড়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপি। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভির।

ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় গত মঙ্গলবার নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ২০১৬ কণ্ঠভোটে পাস হয়। বিলটি এখন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় পাস হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। বিলটিতে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে শরণার্থী হয়ে আসা অমুসলিম তথা হিন্দু, পার্সি, শিখ, জৈন ও খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ নিয়ে মঙ্গলবার থেকেই আসামসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে শুরু হয়েছে বিরোধিতা। একই ইস্যুতে বুধবার আসামে বন্‌?ধ পালন করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার আসামের বিভিন্ন এলাকায় অবরোধ, বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নাগরিকত্ব বিল বাতিল না করা পর্যন্ত আসামের কটন বিশ্ববিদ্যালয়, ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয় ও গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকাল ক্লাস বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন ছাত্ররা। রাজ্যের জোড়হাট মেডিকেল কলেজের ছাত্র-শিক্ষকরাও বিক্ষোভ করেছেন। আসামের প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠন 'অল অসম স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন' আজ শুক্রবারও বন্‌ধ ডেকেছে।

প্রতিবাদ বিক্ষোভে শামিল হওয়ায় গ্রেফতার হয়েছেন আসামের অন্যতম বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষাবিদ হীরেন গোহাঁই,

সমাজকর্মী অখিল গগৈ এবং প্রবীণ সাংবাদিক মনজিত মহন্ত। তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা হয়েছে।

গৌহাটির পুলিশ কমিশনার দীপক কুমার জানান, মামলা রুজু হয়েছে। তাদের এমন কিছু মন্তব্য শোনা গেছে, যা তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে হচ্ছে।

এদিকে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরোধিতায় আগেই রাজ্যের বিজেপি সরকার থেকে সমর্থন প্রত্যাহার করেছে আসাম গণপরিষদ। বুধবার বিজেপির জোট শরিক আসাম গণপরিষদের তিন মন্ত্রী রাজ্য মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন আসামের বিজেপি মুখপাত্র মেহদি আলম বরা। পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে তিনি বলেন, জাতির থেকে দল বড় নয়। নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস হলে আসামে ভূমিপুত্রদের অস্তিত্ব সংকটে পড়বে।

তার মতো নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের বিরোধিতাকারী নেতাদের দাবি, বিলটি আইনে রূপান্তরিত হলে বাংলাদেশি হিন্দুতে ভরে যাবে আসাম।

তবে আসামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ বিজেপিকে ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে দুই ভাগে ভাগ করে ফেলার জন্য দায়ী করেন। তিনি নিন্দা জানিয়ে বলেন, এই বিল পাস করে বিজেপি সরকার নাগরিকদের হিন্দু ও মুসলিম দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলছে। তারা জিন্নাহর মতোই নীতি গ্রহণ করে দেশকে ভাগ করে ফেলছে।

উল্লেখ্য, নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (২০১৬) আইনে পরিণত হলে বদলে যাবে ১৯৫৫ সালের ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন। সে ক্ষেত্রে ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে মুসলিমদের বাদ দিয়ে হিন্দুসহ অন্য ধর্মাবলম্বীর কেউ পালিয়ে এলে আশ্রয় দেবে ভারত সরকার। মিলবে ভারতের নাগরিকত্বও।