নিপাহ ভাইরাস :সাবধানতা জরুরি

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০১৯

ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ

ডিন, মেডিসিন অনুষদ

অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

নিপাহ ভাইরাস অতি সহজেই বাদুড়জাতীয় তৃণভোজী প্রাণী থেকে মানবদেহে প্রবেশ করে। শুধু বাদুড় নয়, শূকরের বর্জ্য থেকেও ছড়াতে পারে নিপাহ। বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত মেহেরপুর, নওগাঁ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, টাঙ্গাইল, ঠাকুরগাঁও, কুষ্টিয়া, মানিকগঞ্জ ও রংপুরে মানবদেহে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। ২০০১ সালে দেশের উত্তরে সীমান্ত এলাকায় প্রথমবারের মতো নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। সে সময় থেকে এ পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত ১৫২ জন। বর্তমানে বাংলাদেশকে এ রোগের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হয়। বাংলাদেশে সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে নিপাহ

ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এই সময়টাতেই খেজুরের রস সংগ্রহ করা হয়। আর বাদুড় গাছে বাঁধা হাঁড়ি থেকে রস খাওয়ার চেষ্টা করে বলে ওই রসের সঙ্গে এদের লালা মিশে যায়। সেই বাদুড় নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকলে এবং সেই রস খেলে মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে এ ভাইরাস। বাদুড়ে খাওয়া ফলমূলের অংশ খেলেও এ রোগ ছড়াতে পারে। এ ছাড়া ভাইরাস বহনকারী শূকরের মাংস খেলে বা আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে থাকলেও এই রোগ ছড়াতে পারে। নিপাহ ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ৫ থেকে ১৪ দিন পর রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। তবে লক্ষণ প্রকাশ ছাড়াও ৪৫ দিন পর্যন্ত সুপ্ত অবস্থায় শরীরের মধ্য থাকতে পারে। শুরুতে প্রচ জ্বর, মাথা ও পেশিতে ব্যথা, খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট, কাশি, পেটব্যথা, বমি ভাব, দুর্বলতা ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। এ রোগে মস্তিস্কে এনসেফালাইটিস জাতীয় ভয়াবহ প্রদাহ দেখা দেয় এবং একপর্যায়ে রোগী প্রলাপ বকতে শুরু করে; ঘুমঘুম ভাব, মানসিক ভারসাম্যহীনতা এবং অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এখন পর্যন্ত এ রোগের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। রোগের লক্ষণ দেখামাত্রই রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে, প্রয়োজনে আইসিইউও লাগতে পারে। সাধারণত লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হয়, প্রয়োজনে অ্যান্টিভাইরাল ব্যবহার করা যায়। আক্রান্ত রোগীর দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে জীবন রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকবে। তাই দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন, ভালো থাকুন।