জব্দ স্বর্ণ নিলামে বিক্রির নামে প্রতারণা

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

বিভিন্ন সময় শুল্ক্ক বিভাগের জব্দ করা স্বর্ণ কম দামে নিলামে দেওয়ার নাম করে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। চক্রের প্রধান খন্দকার মো. ফারুক ওরফে ওমর মবিন (৫২) নিজেকে কাস্টমস কমিশনার পরিচয় দিতেন মানুষের কাছে। ভুয়া এই কাস্টমস কমিশনারের সঙ্গে দু'জন ভুয়া ব্যক্তিগত সহকারীও (পিএস) থাকতেন। মবিনসহ চক্রের সদস্যরা মূলত মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করার জন্যই এসব পরিচয় ব্যবহার করতেন। পরতেন দামি পোশাক, চড়তেন দামি গাড়িতে। অবশেষে বুধবার রাজধানীর বেইলি রোড থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হাতে গ্রেফতার হয়েছেন চক্রের প্রধান ওমর মবিনসহ তিনজন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সিআইডির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বিশেষ পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা। তিনি জানান, গ্রেফতার অপর দু'জন হলেন ইলিয়াস ওরফে নুর ইসলাম সরকার (৩৮) ও সাইফুল ইসলাম (৩০)। ওমর মবিন পরিচয় দিতেন কাস্টমস কমিশনার আর ইলিয়াস ও সাইফুল তার পিএস বলে পরিচয় দিতেন। গ্রেফতার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১৮টি ভিজিটিং কার্ড, ৪০ কোটি টাকা মূল্যের চারটি ব্যাংকের চেকের পাতা, সাতটি মোবাইল ফোন ও ১৩টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেফতার ব্যক্তিরা শুল্ক্ক বিভাগের জব্দ করা স্বর্ণের বার কম টাকায় নিলামে দেওয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতেন। তারা স্বর্ণ কেনার উদ্দেশ্যে আসা ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করতেন বড় বড় হোটেলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ব্যাংকে আটকে থাকা টাকা ছাড় করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েও বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রতারণার আগে

তারা জাল কাগজপত্র তৈরি করতেন। এমনভাবে কাগজপত্র তৈরি করতেন, দেখে বোঝার উপায় থাকত না ওইসব জাল।

মৃণাল নামে এক ভুক্তভোগী জানান, ওমর মবিন তাকে একদিন ফোন করে বলেন, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে যেসব স্বর্ণ জব্দ করেছে সেসব নিলামে বিক্রি করা হবে। মৃণাল ওই স্বর্ণ কিনতে রাজি থাকলে কম দামে তার কাছে এসব বিক্রির ব্যবস্থা করতে পারবেন, কারণ তিনি কাস্টমস

কমিশনার। পরে স্বর্ণ জব্দের ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে গত ৬ জানুয়ারি মৃণালের কাছ থেকে ২৪ লাখ টাকা নেন মবিন।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার সৈয়দা জান্নাত আরা বলেন, ওমর মবিনের মোবাইলের হোয়াটস অ্যাপের মেসেজে ৪০ কোটি টাকার চেকের কপি ও অনেক ফাঁকা চেকের কপি পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেফতারের পর এরই মধ্যে কয়েকজন ভিকটিম সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় একটি মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।