রাজশাহীতে অটোচালক হত্যাকারীর বাড়িতে এলাকাবাসীর আগুন

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০১৯

রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহীতে অটোচালক হত্যাকারীর বাড়িতে এলাকাবাসীর আগুন

রাজশাহীতে অটোরিকশাচালক জয়ের হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে নগরীর নওদাপাড়া আমচত্বরে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। এ সময় হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে একটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ জনতা সমকাল

রাজশাহীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আটক আসামির বাড়িতে আগুন দিয়েছে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহী নগরীর নওদাপাড়া-শেখপাড়া এলাকায় ওই বাড়ি পোড়ানোর ঘটনাটি ঘটেছে। এর আগে গত বুধবার রাত ১০টার দিকে জেলার গোদাগাড়ীর সারাংপুর এলাকা থেকে গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ওই অটোরিকশাচালকের।

নিহত চালকের নাম জসিম উদ্দিন ওরফে জয় (২০)। তার বাবার নাম আরফান আলী। বাড়ি রাজশাহী নগরীর নওদাপাড়ার মাস্টারপাড়া এলাকায়। গত সোমবার

থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি।

নগরের শাহ্‌মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ জানান, গত সোমবার থেকে জসিম নিখোঁজের ঘটনায় মঙ্গলবার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেন তারা। বুধবার নিহত জসিমের দুই বন্ধুকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তারা স্বীকার করে, অটোরিকশার জন্য জসিমকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরে তাদের দেখানো স্থান থেকেই গোদাগাড়ী থানা পুলিশের সহায়তায় লাশ উদ্ধার করা হয়। এই দুই বন্ধু হলো নগরীর শেখপাড়া এলাকার আবুল কালামের ছেলে জসিম উদ্দিন (২৩) ও গোদাগাড়ী উপজেলার মাটিকাটা গ্রামের শাহ আলমের ছেলে সুমন আলী (২৪)। ওসি জানান, অটোরিকশা ছিনিয়ে নিতে পরিকল্পিতভাবে জসিমকে হত্যা করেছে বলে পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে তারা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে অটোচালককে হত্যার প্রতিবাদে এলাকাবাসী নগরীর আমচত্বর এলাকায় বিকেল পৌনে ৩টার দিকে মানববন্ধন করেন। এই কর্মসূচি থেকে ফেরার পথে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আটক আসামি জসিম উদ্দিনের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা রেন্টু মিয়া জানান, এলাকার লোকজন মানববন্ধন করে আটক আসামি জসিম উদ্দিনের বাড়ির দিকে তেড়ে আসতে দেখেই তার স্ত্রী ও মা বাড়ি থেকে বেরিয়ে পালিয়ে যান। তিনি জানান, এই বাসাটি প্রতিবেশী আবু কালামের মুরগির খামারের তত্ত্বাবধায়কের। এ বাসাতেই আটক আসামি জসিম উদ্দিন তার স্ত্রী ও মাকে নিয়ে থাকত।

আগুন লাগিয়ে দেওয়ার পরে তারা 'খুনি জসিমের ফাঁসি চাই- দিতে হবে' স্লোগান দিয়ে চলে যায়। রেন্টু শেখ জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন। ততক্ষণে বাড়িটি পুড়ে যায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িটির বেড়া ও চালা, সবই টিনের ছিল। আগুনে পুড়ে টিনগুলো বাঁকা হয়ে গেছে। ঘরের আসবাবপত্র, ধান-চাল-ভুট্টা ও লেপ-কাঁথা পুড়ে গেছে। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জসিমের লাশ দাফনের প্রস্তুতি চলছিল।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে বৃহস্পতিবার ভোররাতে রাজীব হোসেন (২৪) নামের এক যুবককে পুলিশ আটক করেছে। তার বাড়ি গোদাগাড়ীর মাটিকাটা গ্রামে। তার বাবার নাম মারিফুল ইসলাম। নিজ বাড়ি থেকে গোদাগাড়ী থানার পুলিশ আটক করে তাকে। পুলিশ জানিয়েছে, এই তিন আসামিকে নিয়ে পুলিশ অটোরিকশাটি উদ্ধারের জন্য নাটোরে অভিযান চালাচ্ছে। তাছাড়া তাদের মাধ্যমে রক্তমাখা চাকু ও অটোচালকের রক্তমাখা জামা কাপড় উদ্ধার করা হবে।