উপকারী ফল চালতা

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৯

লেখা ও ছবি মোকারম হোসেন

চালতা ফুলের চেয়ে ফলই আমাদের কাছে বেশি পরিচিত। সাধারণত মুখরোচক ফল হিসেবে বহুল ব্যবহূত হলেও ফলটি চমৎকার ঔষধি গুণসম্পন্ন। শূলরোগে পাকা চালতা থেঁতো করে ২০ মিলি রসে এক চামচ চিনি মিশিয়ে দিনে একবার করে খেলে উপকার পাওয়া যায়। বাতরোগে ৩০ গ্রাম পরিমাণ কাঁচা চালতা বেটে এক গ্লাস ঠান্ডা পানি মিশিয়ে খেলে সেরে যায়। পিত্ত সমস্যা দূর করতে কচি চালতা ছোট ছোট টুকরো করে ১২০ মিলি পানিতে সেদ্ধ করে আধা কাপ অবস্থায় নামিয়ে ঠান্ডা করে দিনে একবার খেতে

হবে। কফ ও সর্দির সমস্যা হলে এক গ্রাম শুকনো বাকলের গুঁড়া, চিনি বা মিছরি এক চামচ আধা কাপ কুসুম গরম পানিতে মিশিয়ে প্রতিদিন একবার করে খেলে উপশম হয়। ঠান্ডাজনিত জ্বর হলে ৩০ মিলি পাকা চালতার রস, তিন চামচ চিনি, ৭০ মিলি পানি- এ তিনটি উপাদান একসঙ্গে মিশিয়ে দিনে একবার করে খেলে জ্বরের প্রকোপ কমে যায়। এসব ছাড়াও চালতার শাঁস নানা খাদ্যে ব্যবহার্য। বিশেষত, শরবত, জেলি ও চাটনিতে কাজে লাগে।

চালতা মাঝারি আকৃতির চিরসবুজ বৃক্ষ। শাখা-প্রশাখা এলোমেলো, শীর্ষ প্রায় গোলাকৃতি, ছায়াঘন এবং ছড়ানো। বাকল লালচে মসৃণ। পাতা দীর্ঘাকৃতির, দৃঢ়-শিরাবিন্যাসে অত্যন্ত তীক্ষষ্টভাবে চিহ্নিত এবং প্রায় খাঁজকাটা প্রান্ত করাতের দাঁতের মতো ধারালো। পাতার আকৃতি এবং বিন্যাসেও চালতা গাছ রূপসী। বর্ষায় ফোটা ফুলটির বৃতির রঙ সবুজ, মাংসল ও স্থায়ী। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এই বৃতিই ফলে রূপান্তর হয়। পাপড়ির রঙ দুধ-সাদা এবং স্বল্পস্থায়ী। এই ফুলের পরাগচক্রে ম্লানহলুদ রঙের অসংখ্য পরাগকেশর থাকে। বৃতির সবুজ, দলের শুভ্রতা, পরাগের হলুদ এবং তারকাবৃতির গর্ভমুণ্ড এই ফুলকে বেশ আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ফল পাকার মৌসুম শরৎ-হেমন্ত। দেখতে প্রায় গোলাকার। পাকা ফলের রঙ হলদে-সবুজ। খেতে টক-মিষ্টি স্বাদের। দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশ এই গাছের আদিআবাস। বৈজ্ঞানিক নাম উরষষবহরধ রহফরপধ।