গাছের কাণ্ডের ভাস্কর্য

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০১৯     আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৯

রমজান আলী

প্রাচীনকালে বাঁশ বা গাছের বিভিন্ন অংশ দিয়ে ঝুড়ি বানানোর শিল্পকে মানব সভ্যতার ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারুশিল্প হিসেবে মনে করা হয়। সাধারণত নমনীয় প্রাকৃতিক বিভিন্ন উপকরণের বুননের মাধ্যমে এসব ঝুড়ি জাতীয় বস্তু বানানো হয়ে থাকে। এবার সেই ঝুড়ি বানানোর কৌশল ব্যবহার করেই চমৎকার সব ভাস্কর্য তৈরি করেছেন ব্রিটিশ ভাস্কর অ্যানা অ্যান্ড উইলো। এসব ভাস্কর্য তৈরিতে প্রধান উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে লোহার কাঠামো ও উইলো নামে এক ধরনের গাছের কাণ্ড।

১০ বছর আগে ভাস্কর্যের ওপর একটি কোর্স করতে গিয়ে প্রথমবারের মতো উইলো গাছ নিয়ে কাজ শুরু করেন অ্যানা। তিনি বলেন, 'প্রাকৃতিক উপাদান নিয়ে কাজ করায় আমার কাছে

একটি নতুন জগৎ উন্মোচিত হয়। আর আমিও ঝুড়ির বুনন বিষয়ে নতুন নতুন কৌশল জানতে পারি।' তিনি আরও বলেন, 'ঝুড়ি বুননের চিরাচরিত দক্ষতার ব্যবহার এবং তার সঙ্গে নিজস্ব চিন্তার মিলনের বিষয়টি আমি উপভোগ করি।'

ভাস্কর্য তৈরির জন্য অ্যানা প্রথমে একটি লোহার কাঠামো তৈরি করে নেন। তারপর সেখানে উইলো গাছের নমনীয় কাণ্ড দিয়ে সুনিপুণভাবে বুনে ফেলেন। পুরোপুরি বোনার কাজটি শেষ হলে তা কাঙ্ক্ষিত আকার ধারণ করে। এভাবে গাছের কাণ্ড ব্যবহার করে অনেক আকৃতির ছোট ছোট ঝুড়ি তৈরি করেছেন অ্যানা। এগুলো মূলত বিভিন্ন উপলক্ষে উপহার দেওয়ার উপযোগী। তবে কিছু চমকপ্রদ ভাস্কর্যও তৈরি করেছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো এক তীরন্দাজ নারীর ভাস্কর্য। দেখলে মনে হবে, শিকার লক্ষ্য করে তীর ছোড়ার সময় তাকে সময়ের ফ্রেমে আটকে রাখা হয়েছে। ৯ ফুট উচ্চতার এই ভাস্কর্যটির নাম দেওয়া হয়েছে 'হান্ট্রেস অব স্কিপটন ক্যাসেল উড'। এ ছাড়া সতর্ক চোখের হরিণ ও খাবারের সন্ধানে থাকা ঘোড়ার ভাস্কর্যও যে কারও দৃষ্টি কাড়বে। বাবার হাত ধরে সন্তানের দাঁড়িয়ে থাকার ভাস্কর্যটিও চমৎকার।

গাছপালা ঘেরা এলাকা বা কোনো বনজ পার্কে রাখা হলে এসব ভাস্কর্য অনায়াসে জীবন্ত হিসেবে ফুটে ওঠে। দেখে যে কারও মনে হতে পারে, এগুলো ওই বনের মধ্যে আপনাআপনি গড়ে উঠেছে। সূত্র :মাই মডার্ন মেট।