টেংরাগিরি বনের পাশে বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

পরিবেশের জন্য হুমকি হবে আশঙ্কায় বরগুনার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের পাশে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প বাতিলের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবি। একই সঙ্গে প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ, জমির মালিকদের নির্যাতন, প্রাপ্য পাওনা না দেওয়াসহ সব ধরনের হয়রানি বন্ধেরও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বরগুনার তালতলী উপজেলার টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ জন্য আগে থেকে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। আইসোটেক ও চায়না পাওয়ারের যৌথ উদ্যোগে ৩০৭ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নিয়ে ইতিমধ্যে পরিবেশবাদীরা সতর্ক করে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে কোর্টে মামলা করা হয়েছে। আদালত নালিশি জমির দখল বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিলেও প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় কোম্পানির পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। যথাযথ ক্ষতিপূরণের দাবিতে ভুক্তভোগীরা আদালতে মামলা করায় তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও এলাকাছাড়া করার ভয় দেখানো হচ্ছে। এমনকি অভিযোগ তদন্ত কমিটির সামনেই তাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার বিষয়টিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যথাযথ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পূর্ণ পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) না করে এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই দেশের দ্বিতীয় সুন্দরবন হিসেবে পরিচিত টেংরাগিরি বনের পাশে এ প্রকল্পের উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৭ অমান্য করা হয়েছে। এই এলাকায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপিত হলে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য বিশেষ করে বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম ধ্বংস হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রকল্প এলাকাটিতে ভুক্তভোগীদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশ ও প্রশাসনের সহায়তায় হয়রানি করা হচ্ছে। আর প্রকল্প এলাকায় সরকারের খাস সম্পত্তি হিসেবে বন বিভাগের শ্রেণিভুক্ত থাকা সত্ত্বেও ভুয়া কাগজ দিয়ে এক শ্রেণির দালাল তা নিজেদের নামে দেখাচ্ছে।

তারা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক কম দামে সেই জমি কোম্পানির কাছে বিক্রি করছে। যদিও এসব জমির অনেকটাই ভূমিহীনদের মধ্যে ৯৯ বছরের জন্য ইজারা দিয়েছে সরকার। তবে সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক স্থানীয় নাগরিকদের ওপর চলমান হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানান। পাশাপাশি আইন লঙ্ঘন করে

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বরগুনাসহ উপকূলীয় জনগণের জীবন-জীবিকা ও জীববৈচিত্র্যকে ঝুঁকিতে ফেলার আত্মঘাতী এ উদ্যোগ বাতিলের আহ্বান জানান।