ইমু পাখি পালনে ঝুঁকছেন খুলনার খামারিরা

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

খুলনা ব্যুরো

অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় পাখি ইমু এখন চাষ হচ্ছে নোনা পানির শহর খুলনায়। প্রথমে শখের বষে ইমু পালন করলেও এখন বাণিজ্যিক চাষে ঝুঁকছেন খুলনার খামারিরা। বর্তমানে খুলনায় ইমু পাখির ৮-১০টি খামার রয়েছে। যে কোনো পরিবেশে বেড়ে উঠতে সক্ষম ও মৃত্যুহার কম এবং পাখির মাংসে চর্বির পরিমাণ কম থাকায় খামারি ও ভোক্তাদের মধ্যে দিন দিন এর চাহিদা বাড়ছে।

খামারিরা জানান, ইমু পালনে আগ্রহী হওয়ার কারণ এর মাংসে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কম। ইমুর মাংসে মাত্র ২ শতাংশ কোলেস্টেরল। এখন সবাই কোলেস্টেরলমুক্ত মাংস চান। এ ছাড়া ইমু পাখি ২৫-৩০ বছর বাঁচে। ৫০ থেকে ৬০ কেজি ওজন ও ৫-৬ ফুট উঁচু হয়। এরা উড়তে পারে না।

তারা জানান, ইমু পাখি তৃণভোজী। এরা ঘাস, শাক-সবজি খায়। পাশাপাশি ফিড খাওয়ানো হয় এদের বৃদ্ধির জন্য। এ ছাড়া একধরনের পাথরকুচি খাওয়ানো হয়, যা এদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। সব থেকে বড় বিষয় হচ্ছে, ইমুর মৃত্যুর হার টার্কি বা ফার্মের মুরগির থেকে অনেক কম।

খুলনার বড় খামারি বটিয়াঘাটা উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম খান বলেন, সবাই দিন দিন স্বাস্থ্য সচেতন হচ্ছে। সবাই কোলেস্টেরলমুক্ত মাংস চান। এটা পূরণে ইমু পাখি সক্ষম। ভবিষ্যতের চিন্তা করেই তিনি ইমু পালন শুরু করেছেন। তিনি বলেন, তার খামারে ১৮০টি ইমু পাখি আছে। ইমুর বাচ্চা বিক্রির ওপরই তিনি শুধু গুরুত্ব দিচ্ছেন। মাংস বিক্রি নিয়ে এখনও ভাবছেন না।

বটিয়াঘাটা উপজেলার ইমুচাষি মো. ইমরান হোসেন জানান, ২০১৭ সালে তিনি প্রথম ইমু চাষ শুরু করেন। ৪০০ গ্রামের একটি ইমুর বাচ্চা ১২ থেকে ১৪ মাস পরে ৬০ কেজির বেশি ওজন হয়। ১৮ মাসে ইমু বাচ্চা দেওয়া শুরু করে। একটি ইমু ১৮ থেকে ৩৫টি ডিম দিতে পারে। একজোড়া ইমুর বাচ্চা ১০ থেকে ১২ হাজার টাকায় কেনা হয়। ১২ থেকে ১৪ মাস পর জোড়া ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। বিক্রি করা যায় এর মাংসও। এ ছাড়া ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়েও বিক্রি করা যায়।

বটিয়াঘাটা উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. বঙ্কিম কুমার হালদার বলেন, এরই মধ্যে এ উপজেলায় ৮-১০টি ছোটবড় খামার গড়ে উঠেছে। তারা সব ধরনের সহযোগিতা করছেন। তিনি বলেন, মানব শরীরের প্রাণিজ আমিষের চাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখবে ইমু পাখি। ইমুর মৃত্যুহার কম হওয়ায় চাষিরাও লাভবান হবেন। এ ছাড়া এ পাখির চাহিদা রয়েছে দেশের বিভিন্ন চিড়িয়াখানা ও পর্যটন কেন্দ্রেও। বছর দেড়েক বয়স হলেই এ পাখি ডিম দিতে শুরু করে। এরা সাধারণত শীতকালে ডিম পাড়ে। গড়ে ২৫টি করে ডিম পাড়ে। প্রতিটি ডিমের দাম প্রায় ১ হাজার ২০০ টাকা। ইমুর চামড়া থেকে ব্যাগ তৈরি হয়। হাড়ের গুঁড়ো থেকে ওষুধ, নখ ও পালক থেকে সাজগোজের সামগ্রী তৈরি হয়।