ছুটির দিনেও অভিযান প্রথম ধাপে কর্ণফুলী পাড়ের ২৩০ স্থাপনা উচ্ছেদ

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর পাড়ের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান ছুটির দিনেও অব্যাহত রয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে নগরীর পশ্চিম মাদারবাড়ি এলাকায় আনু মাঝির ঘাটের দু'পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। সব মিলিয়ে প্রথম ধাপের উচ্ছেদ অভিযানে শুক্রবার পর্যন্ত ২৩০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

অভিযানের প্রথম চার দিনে প্রায় ১৮০টি অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গতকাল ছোট-বড় প্রায় অর্ধশত স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এর ফলে নদীর সঙ্গে সংযুক্ত পাঁচটি খালের প্রবেশমুখ অনেকটাই পরিস্কার করা হয়েছে। দখলমুক্ত হয়েছে নদী তীরবর্তী প্রায় ১০ একর জমি।

নগরীর পতেঙ্গা সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিলুর রহমান সমকালকে বলেন, 'প্রথম ধাপে উচ্ছেদের জন্য যেসব স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছিল, তার সবই উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে দখলমুক্ত হয়েছে ১০ একরের বেশি জায়গা। জায়গাগুলো যাতে ফের দখল হয়ে না যায় সেজন্য সীমানা দিয়ে সংরক্ষণ করা হবে। এই কাজ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালানো হবে।'

ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান আরও জানান, দখলের ফলে নদীর সঙ্গে সংযুক্ত পাঁচটি খাল এক প্রকার নালায় পরিণত হয়েছিল। এক সময় এসব খাল জলাবদ্ধতা নিরসনে ভূমিকা রাখত। কিন্তু সংকুচিত হয়ে পড়ায় তা কাজ করছিল না। এখন খালের মুখগুলো দখলমুক্ত হওয়ায় পানি সহজে নেমে যতে পারবে।

সিটি করপোরেশনের পরিবহন পুলের দায়িত্বে থাকা তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাক জানান, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে লংবুম ছাড়াও বুলডোজার, বেক হো লোডার ও ডাম্প ট্রাক দেওয়া হয়েছে। বড় স্থাপনা সরাতে বেশ নিরাপদ ও কার্যকর লংবুম।

জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ফায়ার সার্ভিস, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড, বিআইডব্লিউটিএ এবং র‌্যাব ও পুলিশ কাজ করছে। জেলা প্রশাসনের নিয়োগ করা শতাধিক শ্রমিকও অভিযানে কাজ করছেন।