সুলতানি আমলের মসজিদটি আজও গেজেটভুক্ত হয়নি

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

ইকবাল হোসেন পাটোয়ারী, চাঁদপুর

চাঁদপুরের জঙ্গলে পাওয়া সুলতানি আমলে মসজিদটি এখনও মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত হয়নি। কবে এই অপেক্ষার শেষ হবে তাও কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। মসজিদটি দেখার জন্য গত কয়েক মাস ধরেই চাঁদপুরসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে দর্শনার্থী ভিড় জমাচ্ছেন। কিন্তু এটি সংরক্ষণে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ তেমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আতাউর রহমান সমকালকে জানান, তাদের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিন জরিপ করে অধিদপ্তরকে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য জানায়। তিনি বলেন, প্রত্নতাত্ত্বিক আইন অনুযায়ী এটি ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে বিধায় এটি সংরক্ষণ জরুরি। সেই আলোকে স্থানীয় জেলা প্রশাসনকে অবহিত করে ভূমি অধিগ্রহণসহ যাবতীয় বিষয় সম্পাদন করার জন্য আমরা কাগজপত্র চাই। জেলা প্রশাসক গত বছরের ডিসেম্বরে অধিদপ্তরের চাহিদা অনুযায়ী কাগজপত্র দেন।

ড. আতাউর রহমান বলেন, যতটুকু জানি গত মাসেই এটি অধিদপ্তরের সুপারিশসহ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানো হয়েছে। এখন বিষয়টি সম্পূর্ণ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। এ ব্যাপারে গতকাল শুক্রবার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আলতাফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, একটি অনুষ্ঠানে আছি। এ বিষয়ে পরে কথা বলবো। বিভাগটির দায়িত্বরত যুগ্ম সচিব অসীম কুমার দের ফোনে যোগাযোগ করে মসজিদটি গেজেটভুক্তির বিষয়টি কোন পর্যায়ে রয়েছে জানতে চাইলে তিনি রাগান্বিত কণ্ঠে বলেন, আজ বন্ধের দিন। আমি তো আর মুখস্থ রাখি না। পরে কথা বলুন।

এদিকে মসজিদটি সংরক্ষণ এবং ওই এলাকাকে একটি পর্যটন কেন্দ্রে রূপ দেওয়ার জন্য এলাকাবাসী এমনকি চাঁদপুরবাসীও অধীর আগ্রহে রয়েছে। কারণ, এটি উদ্ধার করার দিনকয়েক পরই এলাকার সন্তান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি মসজিদটি পরিদর্শন করেন এবং এটিকে সংরক্ষণ করে পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার ব্যবস্থা নেবেন বলেন জানান। এ ছাড়া চাঁদপুর প্রশাসনের কর্মকর্তারা একাধিকবার মসজিদটি পরিদর্শন করেন। মসজিদ ও এর আশপাশের এলাকা নিরাপদ রাখার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান বলেন, আমরা বহু আগেই প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ছক অনুযায়ী ভূমির পরিমাণসহ ইতিবাচক মন্তব্য করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। রামপুর ইউপি চেয়ারম্যান আল মামুন পাটোয়ারী জানান, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পক্ষে যিনি মসজিদটি পরিদর্শন করে গেছেন তিনি জানিয়েছেন, মসজিদটি গেজেটভুক্ত করার জন্য তারা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেছেন। গেজেটভুক্ত হলেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সুলতানি আমলের এক গম্বুজ মসজিদটি গত বছর সংরক্ষণের জন্য উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের লোকজন এটি পরিদর্শন করেন। এর মধ্যে প্রথমেই আসেন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক রাখী রায় ও তার প্রতিনিধি দল। পরে প্রত্নতাত্ত্বিকরা যাচাই করে নিশ্চিত হয়েছেন, এটি প্রায় ৫০০ বছর আগে নির্মিত মসজিদ।