গোদনাইল ডিপো থেকে ৬০ হাজার লিটার তেল চুরি

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জের গোদনাইলে মেঘনা তেল কোম্পানির স্থানীয় একটি ডিপো থেকে প্রায় ৬০ হাজার লিটার তেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ডিপো ইনচার্জ এসএ খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) অভিযানে বিষয়টি ধরা পড়ে। ঘটনার তদন্তে মেঘনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশন এবং বিপিসি পৃথক দুটি কমিটি গঠন করেছে। বিপিসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

জানতে চাইলে মেঘনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর সাইফুল্লাহ খালেদ বলেন, বিপিসি হঠাৎ করে গোদনাইলের ডিপোতে অভিযান চালিয়ে তেলের মজুদ কম পায়। প্রতিনিধি দল ডিপোর ট্যাঙ্কার মেপে কয়েক হাজার লিটার তেল কম পায়। তাৎক্ষণিকভাবে ডিপোর ইনচার্জকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। অধিকতর তদন্তের জন্য তারা একটি কমিটি গঠন করেছেন। তাদের প্রতিবেদন পেলে পুরো ঘটনা জানা যাবে।

সূত্র জানায়, গত ৩১ জানুয়ারি রাতে বিপিসির একটি প্রতিনিধি দল হঠাৎ গোদনাইল ডিপোতে অভিযান চালায়। তারা সরাসরি ডিপোর রিজার্ভ ট্যাঙ্ক মাপে। এরপর নদীতে খালাস হওয়ার অপেক্ষায় থাকা জাহাজ পরির্দশন করে। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ হাজার লিটার তেলের মজুদ কম পায়। অন্য একটি সূত্র জানায়, বিপিসির কর্মকর্তারা জাহাজ থেকে স্থানীয় কয়েকজনকে ড্রামে করে অবৈধভাবে তেল নামাতে দেখেন। চট্টগ্রাম থেকে যে জাহাজে তেল গোদনাইল ডিপোতে আনা হয়েছিল তাতে ৩২টি জায়গা সিল করা ছিল। কিন্তু খালাসের অপেক্ষায় থাকা জাহাজের প্রায় ৮টি সিল ভাঙা ছিল, যেখান থেকে তেল চুরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিপিসির সূত্রগুলো জানায়, গোদনাইলের মেঘনা ডিপোকে কেন্দ্র করে তেল চুরির একটি সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার তেল চুরি হয়। দুই মাস আগেও ডিপো থেকে প্রায় ৪৩ লাখ টাকার মবিল চুরির ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে বিপিসির এক পরিচালক জানান, তাদের প্রাথমিক তদন্তে মজুদের হিসেবে গরমিল পাওয়া গেছে। এ জন্য একজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।