রূপপুর প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ভুয়া তালিকার প্রতিবাদ করায় খুন!

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী (পাবনা)

ঈশ্বরদীর পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিম হত্যাকাণ্ডে রূপপুর গ্রাম এখনও থমথমে। নৃশংস এই হত্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করেছেন নিহতের ছেলে তানভির রহমান তন্ময়। নিহত সেলিমের চাচাতো ভাই মঞ্জুরুল আহসান রুবেল জানিয়েছেন, এই এলাকায় এর আগে আরও তিনটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় তারা মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করেন। তবে পুলিশের চাপাচাপিতে শেষ পর্যন্ত মামলা করতে বাধ্য হন।

আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে ভুয়া তালিকা তৈরি করছিল প্রভাবশালী একটি মহল। আর এর প্রতিবাদ করতে গিয়েই মুক্তিযোদ্ধা সেলিমকে হত্যার শিকার হতে হয়েছে বলে মনে করেন এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

সেলিমের স্ত্রী দিলারা বেগম জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র এলাকায় ভুয়া কৃষকের তালিকা তৈরি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। সে তালিকা চ্যালেঞ্জ করেন আমার স্বামী। আমাদের ধারণা, সরকারের কাছে দেওয়া ওই ভুয়া তালিকা প্রণয়নকারীরাই তাদের 'পথের কাঁটা' সরিয়ে দিতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষও মনে করেন, মুক্তিযোদ্ধা সেলিম সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাকে এভাবে প্রাণ দিতে হলো।

এলাকাবাসী ও নিহত সেলিমের স্বজনের দাবি- পাকশী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাসের লোকজনই এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান ফান্টুও এমনটি মনে করেন। সমকালকে তিনি বলেন, রূপপুর প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ভুয়া তালিকার লোকজন বেশিরভাগই পাকশীর চেয়ারম্যানের। আমাদেরও ধারণা, ভুয়া তালিকার লোকদের স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটতে পারে- এ কারণেই মুক্তিযোদ্ধা সেলিমকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাসের ভাতিজা আরজু বিশ্বাসকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গেছে। তবে তাকে আটক নাকি গ্রেফতার করা হয়েছে, তা পরিস্কার করে বলেনি পুলিশ। পাকশী থানার ওসি বাহাউদ্দিন ফারুকি বলেন, এখনও বিস্তারিত বলার সময় আসেনি। থানা পুলিশসহ পুলিশের বেশ কয়েকটি বিভাগ অনুসন্ধান চালাচ্ছে। রহস্য উদ্ঘাটন হলে সবই জানানো হবে।

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনামুল হক বিশ্বাস বলেন, 'আমার জানা মতে মুক্তিযোদ্ধা সেলিমের কোনো শত্রু ছিল না। তাকে

কেন এবং কারা এভাবে হত্যা করল, তা নিয়ে এলাকাবাসীর মতো আমিও চিন্তিত। তবে এ ঘটনার সঙ্গে আমার লোকজন কোনোভাবেই জড়িত নয়।' ভাতিজা আরজু বিশ্বাসকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, 'পুলিশ কেন আরজুকে আটক করেছে তাও জানি না।'

পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হব্বুল বলেন, রূপপুর ও পাকশীতে একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটছে। এর একটিরও আজ পর্যন্ত বিচার হয়নি। এ কারণে এলাকায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার রাতে রূপপুর গ্রামে নিজ বাড়ির সামনে মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান সেলিমকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা।