মোবাইল ফোন চুরির অপবাদে ২ ছাত্রকে বেঁধে মারধর

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

রাজবাড়ী ও গোয়ালন্দ প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া বাজারে দুই স্কুলছাত্রকে মোবাইল ফোন চুরির অপবাদে রশি দিয়ে বেঁধে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটে।

মারধরে আহত হয়েছে উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের বিলধামু গ্রামের ফরিদ মোল্যার ছেলে ও বিলধামু আবুল কাসেম মণ্ডল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র বিজয় মোল্যা এবং একই গ্রামের সাদেক

আলীর ছেলে ও মধুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র

আসিক। বিলধামু গ্রামের বাবু মোল্যা জানান, সাবেক সেনা সদস্য জুলফিকার শেখ ফোনে আমাদের গ্রামের দুটি ছেলেকে আটকে রেখে আমাকে খবর দেন। আমার সামনে মারধর করেননি। তারা বলে ফোন চুরি করেছে। পরে সবার উপস্থিতিতে আমার কাছে ওই ছেলে দুটিকে বুঝিয়ে দেয়।

মারধরের শিকার বিজয় মোল্যা জানায়, নারুয়া গ্রামের সুমনের কাছে তাদের একটি ফোন মেরামত করতে দেয়। শুক্রবার সকালে ফোনটি দেওয়ার কথা ছিল। সকালে দোকানে গিয়ে তাকে না পেয়ে তার বাড়িতে যায়। সুমন বাড়িতে না থাকায় তার বাবা জুলফিকার শেখের কাছে বললে তিনি বলেন, পরে আসতে। বাড়ি ফেরার পথে একটি মোবাইল ফোন পাই। বিষয়টি সবাইকে জানাই পথে একটি মোবাইল ফোন পেয়েছি। বিকেলে ওই দোকানে ফোন আনতে গেলে সুমন ও জুলফিকার আমাদের দু'জনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখে মারধর শুরু করে। চিৎকার করলে বলে, একটি কথাও বলবি না। তোরা ফোন চুরি করলি কেন? মারধরে বাধ্য হয়ে ফোন চুরি করেছি বলে স্বীকার করি। বিজয়ের বাবা ফরিদ মোল্যা জানান, খবর পেয়ে এসে দেখি ছেলের শরীরে বেধড়ক মারধরের চিহ্ন। পরে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক শরীফুল ইসলামের কাছে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে শিশু নির্যাতনকারীর বিচার দাবি করছি। অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য জুলফিকার শেখ জানান, মোবাইল ফোন চুরি সন্দেহে তাদের আটক করি। তাদের দুটি বাড়ি মারার পর মোবাইল চুরির কথা স্বীকার করে। ফোনও দিয়েছে।