বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন নয় :তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, দেশি কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে না। এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। দেশি টেলিভিশন চ্যানেলে কর্মরত সংবাদকর্মীদের নবগঠিত সংগঠন ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) এ সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি আশা করেন, সম্প্রচার মাধ্যমের সাংবাদিকরা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হবেন। কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড, পেশাগত ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং গবেষণার মাধ্যমে তারা এগিয়ে যেতে পারবেন।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বেশিরভাগ দেশি চ্যানেল পরিচালনায় সমস্যা রয়েছে। বাজার থেকে যে সংখ্যক বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়, তা দিয়ে বেতন-ভাতা পরিশোধ ও চ্যানেল পরিচালনা অনেকের জন্য দুরূহ। এখানে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো কেবল অপারেটররা ডাউনলিংক করে বিদেশি চ্যানেল দেখায়। বিদেশি চ্যানেল দেখানো অপরাধ নয়; কিন্তু বিদেশি চ্যানেলে দেশি প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রচার দণ্ডনীয় অপরাধ।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশে গণমাধ্যমের বিকাশ ঘটেছে। গণমাধ্যম

যথেষ্ট স্বাধীনভাবে কাজ করছে। গণমাধ্যম ও এর সঙ্গে সংশ্নিষ্টদের সুরক্ষা দিতে সরকার কাজ করছে। ৪৪টি চ্যানেলের লাইসেন্স দিয়েছে সরকার। ৩০টির বেশি সম্প্রচারে রয়েছে। আরও কয়েকটি শিগগির সম্প্রচারে আসবে। সংবাদ ও অনুষ্ঠানে সমাজের অসঙ্গতি তুলে ধরার পাশাপাশি দেশ গঠনের বার্তা দেওয়ার অনুরোধ জানান তথ্যমন্ত্রী।

হাছান মাহমুদ জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের বেতন কাঠামোতে টিভিতে কর্মরতদেরও অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই নবম ওয়েজ বোর্ড নিয়ে আলোচনা করে পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। যথাসময়ে কর্মীদের বেতন দিতে চ্যানেল মালিকদের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

উদ্বোধনী পর্বের পর সম্মাননা পর্বে সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্র গঠনে ভূমিকা রাখায় তিন সাংবাদিককে সম্মাননা দেওয়া হয়। এর পর এটিএন নিউজের বার্তাপ্রধান মুন্নী সাহার সঞ্চালনায় আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। 'সম্প্রচার শিল্প :একটি সম্ভাবনার সংকট' শীর্ষক এই আলোচনায় বক্তব্য দেন সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের (পিআইবি) মহাপরিচালক শাহ আলমগীর, একাত্তর টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বাবু, নিউজ টোয়েন্টিফোরের প্রধান নির্বাহী নঈম নিজাম, জিটিভির প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান রেজোয়ানুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব আশরাফুল আলম খোকন প্রমুখ।

নবগঠিত সম্প্রচার সাংবাদিক কেন্দ্রের চেয়ারম্যান হয়েছেন রেজোয়ানুল হক। সদস্য সচিব নির্বাচিত হয়েছেন একাত্তর টেলিভিশনের বার্তাপ্রধান শাকিল আহমেদ।



-সোহেল