ঢাকা কাস্টমসের কুরিয়ার ইউনিট

মিথ্যা ঘোষণায় পাচার হচ্ছে অবৈধ পণ্য

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

শহিদুল আলম

ঢাকা কাস্টম হাউসের কুরিয়ার শুল্ক্কায়ন ইউনিটে সক্রিয় সংঘবদ্ধ একটি পাচারকারী চক্র। মিথ্যা ঘোষণায় কোটি কোটি টাকার অবৈধ পণ্য পাচার করছে তারা। এ ছাড়া কুরিয়ার ইউনিটে বিভিন্ন পণ্য চুরির ঘটনাও নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে স্বর্ণ, ওষুধের কাঁচামাল, রাসায়নিক পদার্থ, গার্মেন্টসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী। অভিযোগ রয়েছে- এক শ্রেণির অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তা এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মালিক ও কর্মচারী এর সঙ্গে জড়িত। মাঝেমধ্যে দু-একটি অবৈধ পণ্যের চালান আটক হলেও চক্রটি আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। এতে করে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২১ জানুয়ারি কুরিয়ার ইউনিট দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় এসএমআই এক্সপ্রেসের নামে বিদেশ থেকে আসা কয়েক কোটি টাকার পণ্যের একটি চালান ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে পাচারের চেষ্টা হয়। খবর পেয়ে ঢাকা কাস্টম হাউসের একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে তা আটক করে। ওই দলে থাকা কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা কাস্টম হাউসের বিতর্কিত এসএমআই এক্সপ্রেসের (সিঅ্যান্ডএফ) মালিক হচ্ছেন বদরুল আলম শ্যামল। ঘটনার সঙ্গে জড়িত শ্যামলের ভাই প্রিন্স ও কর্মচারী আরাফাত রহমান পালিয়ে যান। জব্দ পণ্য ঢাকা কাস্টম হাউসের গোডাউনে রাখা হয়েছে। এসবের মধ্যে গার্মেন্টস অ্যাক্সেসরিসের শুল্ক্কযুক্ত বিভিন্ন পণ্য রয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

এ ঘটনা ছাড়াও কয়েকদিন আগে কুরিয়ার ইউনিটে ডিএসএল কুরিয়ার খাঁচায় অভিযান চালিয়ে একটি চালান থেকে ১০ কেজি ওজনের ১০টি স্বর্ণবার জব্দ করা হয়। মিথ্যা ঘোষণায় বিদেশ থেকে ডিএসএল কুরিয়ার মাধ্যমে পার্টসের নামে ওই স্বর্ণের চালান ঢাকায় নিয়ে আসে চক্রটি। তবে ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। এ বিষয়ে ঢাকা কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার শায়েদ আহমেদ জানান, ওই ঘটনায় দায়ের করা বিভাগীয় মামলার তদন্ত চলছে।

সংশ্নিষ্ট একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ঢাকা কাস্টম হাউসের শুল্ক্কায়ন কুরিয়ার ইউনিটসহ পণ্য খালাসের বিভিন্ন গেটে সক্রিয় রয়েছে সংঘবদ্ধ একটি চক্র। কোটি কোটি টাকার অবৈধ পণ্য পাচারের সঙ্গে তারা জড়িত। মাঝেমধ্যে দু-একটি চালান আটক হয়, মামলা হয়; তদন্তও হয়। তবে রহস্যজনক কারণে আড়ালেই থেকে যাচ্ছে চক্রটি। পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ পণ্য পাচারের ঘটনায় বেশ কিছু সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সসহ পিন কোড নম্বর বাতিল করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ঢাকা কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার অথেলো চৌধুরী সমকালকে বলেন, পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত এসএমআই এক্সপ্রেসের লাইসেন্স এবং পিন কোড নম্বর বন্ধ রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার তদন্ত চলছে। এ ছাড়া কুরিয়ার ইউনিটে অবৈধ পণ্য পাচার ঠেকাতে গেটগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। একই সঙ্গে বিদেশ থেকে বিভিন্ন কুরিয়ার মাধ্যমে আসা পণ্যের খাঁচাগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।