সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ১৪ দিনের অনুষ্ঠান শুরু

একুশের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

একুশের চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়

শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে অমর একুশের অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনীতে নৃত্যশিল্পীদের পরিবেশনা সমকাল

একুশ মানেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। একুশ শেখায় ভাষাকে ভালোবাসতে। শেখায় দেশপ্রেম। একুশের এই অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া অঙ্গীকার নিয়ে গতকাল থেকে শুরু হয়েছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ১৪ দিনের অনুষ্ঠানমালা। এবারের অনুষ্ঠানের স্লোগান- 'একুশ আছে জয়োদ্ধত একুশ বাঁচে অবিরত'।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠানমালার সূচনা হয়। উদ্বোধনী আয়োজনে গান, কবিতা, পথনাটক ও নৃত্য পরিবেশনার সঙ্গে উচ্চারিত হয়েছে উচ্চ আদালতসহ সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনের দাবি। সেই সঙ্গে উঠে এসেছে শহীদ মিনারকে পূর্ণাঙ্গ নকশায় রূপান্তর এবং ভাষাসংগ্রামীদের একুশের প্রথম প্রহরে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের দাবি। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানী।

জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ। আলোচনায় অংশ নেন একুশে অনুষ্ঠান উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক নাট্যব্যক্তিত্ব ঝুনা চৌধুরী। স্বরচিত একুশের কবিতা পাঠ করেন কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি তারিক সুজাত। ঘোষণাপত্র পাঠ করেন বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী আহ্‌কাম উল্লাহ্‌।

গতকাল বিকেলে শহীদ মিনারের বেদিতে ভাষা শহীদদের স্মরণে পষ্পাঞ্জলি অর্পণের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। জোট নেতাদের সঙ্গে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান কবি, আবৃত্তিশিল্পী, নাট্যকর্মীসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। এরপর পালন করা হয় ১ মিনিটের নীরবতা। পরে গণসঙ্গীত সমন্বয়

পরিষদের শিল্পীরা গান জাতীয় সঙ্গীত। এরপর গাওয়া হয় একুশের গান। শেষে পরিবেশিত হয় একুশের স্মৃতিতে নিবেদিত নাচ।

কামাল লোহানী বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রথম দাবি ছিল রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই। দ্বিতীয় দাবিটি ছিল, সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন। তৃতীয় দাবি ছিল, সব আঞ্চলিক ভাষার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। অথচ এখন রাস্তাঘাটে বের হলে বাংলার বদলে ইংরেজি লেখা সাইনবোর্ড দেখতে হয়। উচ্চ আদালত থেকে সর্বত্র বাংলা ভাষায় নথিপত্র প্রচলনের নির্দেশ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এখনও তার বাস্তবায়ন হয়নি। মাতৃভাষার প্রতি উদাসীনতা দেখিয়ে আমরা ভাষা শহীদদের অবমাননা করছি। শিক্ষাব্যস্থার মধ্যেও রয়েছে গলদ। ভাষার মর্যাদাকে রক্ষা করতে হলে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থার প্রবর্তন করতে হবে।

গোলাম কুদ্দুছ বলেন, বাহাত্তরের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়। অথচ সেই সংবিধানকে লঙ্ঘন করে উচ্চ আদালতে ইংরেজিতে কার্যক্রম চলছে। একইভাবে উচ্চশিক্ষায়ও বাংলা ভাষার প্রবর্তন নেই। হীনমন্যতা পরিহার করে বাংলার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে।

'ফাগুন দিন আঁকি' শীর্ষক স্বরচিত একুশের কবিতা পাঠ করেন কবি তারিক সুজাত। আলোচনা শেষে ছিল গান, কবিতা ও পথনাটকে সজ্জিত সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বাচিকশিল্পী আশরাফুল আলম পাঠ করেন মাহবুব উল আলম চৌধুরী রচিত ভাষা আন্দোলনের প্রথম কবিতা 'কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি'। একক কণ্ঠে দেশাত্মবোধক সঙ্গীত পরিবেশন করেন সমর বড়ূয়া, আরিফ রহমান ও আবিদা রহমান সেতু। 'আগুনের জবানবন্দি' শিরোনামের পথনাটক পরিবেশন করে নাট্যদল আরণ্যক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মাসকুর-এ-সাত্তার কল্লোল।

আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চলবে সাংস্কৃতিক জোটের এই অনুষ্ঠানমালা। এরপর ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুষ্ঠানটি স্থানান্তরিত হবে ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এ আয়োজনে ভাষা শহীদদের স্মরণে গাওয়া হবে গান, পাঠ করা হবে কবিতা। পরিবেশিত হবে নৃত্য, শিশু-কিশোর পরিবেশনা এবং মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনসহ বিষয়ভিত্তিক পথনাটক।