চাকরি স্থায়ী করার দাবি অতিরিক্ত শ্রেণি শিক্ষকদের অনশন চলছে

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

বকেয়া বেতনসহ চাকরি স্থায়ী করার দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো অনশন করেছে বাংলাদেশ অতিরিক্ত শ্রেণিশিক্ষক (এসিটি) সমিতি। গতকাল শুক্রবার অনশনে বেশ কয়েকজন শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন-আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। অনশনরত শিক্ষকদের

দাবি, মডেল শিক্ষক হিসেবে তাদের নিয়োগ দেওয়া হলেও পরে চাকরি স্থায়ী করার স্পষ্ট উল্লেখ ছিল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে চাকরি স্থায়ী করার বিষয়ে চিঠি দেওয়া হলেও আইনি জটিলতার অজুহাতে সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন করা হয়নি। তবে এসইডিপি প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়, সেটাও বাস্তবায়ন হয়নি। তারা দাবি করেন, সেকায়েপভুক্ত এসিটিদের দক্ষতায় অনেক ডুবে যাওয়া প্রতিষ্ঠানের প্রাণ ফিরেছে। অনেক বিদ্যালয়ে আগে যেখানে পাসের হার ছিল ৫০ শতাংশ, আমাদের প্রচেষ্টায় তার হার দাঁড়ায় প্রায় ১০০ শতাংশে। এসব শিক্ষক গত তিন বছরে মোট তিনটি বিষয়ে ৩৭ লাখ ২০ হাজার ৯৪টি অতিরিক্ত ক্লাস নিয়েছেন। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাসের হার বৃদ্ধি ছাড়াও কোচিং বাণিজ্য বন্ধ, শিশু ঝরে পড়া রোধসহ বাল্যবিয়ে রোধে অতিরিক্ত শ্রেণিশিক্ষকদের অবদান বর্তমান সরকারও স্বীকার করছে। তাই চাকরি স্থায়ী করার ক্ষেত্রে কোনো মিথ্যা আশ্বাস না দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা।

এসিটি সমিতির সভাপতি কৌশিক চন্দ্র বর্মণ জানান, আমরা বিনা বেতনে ১৪ মাস শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছি। বিনা বেতনে পাঠদানরত শিক্ষকরা বর্তমানে আর্থিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। এ ছাড়া টানা অনশনে অনেক শিক্ষক অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এ পরিস্থিতিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ থাকবে, দ্রুত সেকায়েপভুক্ত এসিটিদের বিনা শর্তে পরবর্তী প্রকল্পে স্থানান্তর অথবা চাকরি স্থায়ী করা হোক।