বিমানে ইয়াবার চালান আনতেন শাহরিয়ার

আরও ৩ কারবারি গ্রেফতার

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

একটি পাঁচ তারকা হোটেলের জিএম হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেন শাহরিয়ার পারভেজ ওরফে বাপ্পী। প্রতি সপ্তাহে তিন-চারবার বিমানের বিজনেস ক্লাসে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় যাতায়াত করেন। প্রতিবার আসার সময় কোমরে লুকিয়ে নিয়ে আসেন ১০ থেকে ২০ হাজার ইয়াবার চালান। গত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে গ্রেফতারের পর গতকাল শুক্রবার এসব তথ্য জানায় র‌্যাব-১। একই অভিযানে আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা হলেন- জাহাঙ্গীর আলম, নেপাল পাল ও হাবিব বেপারী।

র‌্যাব-১ সূত্র জানায়, গোপন খবরের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে বিমানবন্দর ফুট ওভারব্রিজ এলাকা থেকে ওই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১৯ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা, ইয়াবা বিক্রির চার লাখ ৫৩ হাজার টাকা ও নয়টি মোবাইল ফোন

জব্দ করা হয়।

র‌্যাব জানায়, সিইপিজেডের একটি পোশাক কারখানায় প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন শাহরিয়ার পারভেজ। তিনি ১৯৯৭ সালে কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে স্নাতক পাসের পর কুমিল্লার কান্দিরপাড়ের আমানিয়া মার্কেটে কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসায় ক্ষতির মুখে পড়ে ২০০৭ সালে তিনি ব্যাংককে চলে যান এবং ২০১০ সাল পর্যন্ত সেখানে থাকেন। এরপর ২০১৩ সালে যান কাতার। ২০১৭ সালে দেশে ফিরে মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েন। ওই বছরের আগস্টে কক্সবাজারের কামরুল নামে একজনের মাধ্যমে যুক্ত হন ইয়াবার কারবারে। বিমানযাত্রী হিসেবে ঢাকায় আসার সময় ইয়াবা নিয়ে আসতেন শাহরিয়ার। এভাবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে অসংখ্য চালান ঢাকায় এনেছেন। ঢাকায় ইয়াবা আনার পর বাড্ডার সুমন, নুরের চালার টিপু, ঢাকার জাহাঙ্গীর আলম ও রাজশাহীর আলমের কাছে হস্তান্তর করতেন তিনি। গ্রেফতারকৃত জাহাঙ্গীর আলম রাজধানীর মিরপুরে 'জেরিন মাল্টিমিডিয়া' নামে একটি দোকানের মালিক। তিনি রাজশাহীর আলমের মাধ্যমে ছয় মাস আগে ইয়াবার কারবারে জড়িয়ে পড়েন। বড় মাপের একজন ইয়াবা কারবারি এবং শাহরিয়ার পারভেজের ইয়াবা চালানের মূল ক্রেতা তিনি। এ ক্ষেত্রে হাবিব তার সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। হাবিব পেশায় একজন প্রাইভেটকার চালক। আরেক আসামি নেপাল পাল পেশায় স্বর্ণ ব্যবসায়ী। পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারে তার স্বর্ণের দোকান রয়েছে। তিনি দুই বছর ধরে ইয়াবায় আসক্ত। একপর্যায়ে তিনি ইয়াবার কারবারে জড়িয়ে পড়েন।