ডিএনসিসি নির্বাচন -ওয়ার্ড ৩৯ ও ৪০

বৃষ্টিতে কাদা,রোদে ধুলা

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

অমিতোষ পাল

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নবগঠিত ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাধীন বারিধারা জে ব্লকের একটি মাদ্রাসার নাম নঈমুদ্দিন মাদ্রাসা। ওখান থেকে ভাটারার পূর্বে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত সড়কটিতে সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। এ ছাড়া এবড়োখেবড়ো চিত্র তো আছেই। এর সঙ্গে আছে ধুলোবালি-আবর্জনার স্তূপ। ঠিক একই অবস্থা ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের অধীন সৌদি আরব দূতাবাস সংলগ্ন ১০০ ফুট রাস্তা থেকে নয়ানগর মসজিদ পর্যন্ত সড়কেরও। বছরের পর বছর এই জলাবদ্ধতা ও ভাঙাচোরা রাস্তাঘাটের ভোগান্তি এলাকাবাসীর নিত্যসঙ্গী। এ দুটি ওয়ার্ডে ড্রেনেজ ব্যবস্থার অবস্থাও বেহাল। অন্তত ৭০ শতাংশ এলাকায় কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। আর স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা তো একেবারেই অনুপস্থিত। প্রধান সড়ক ছাড়া বেশিরভাগ সড়কেই ইটের ছোঁয়া লাগেনি। সেগুলো এখনও কাঁচা। বৃষ্টি হলে এক হাঁটু কাদা আর রোদ উঠলে এক হাঁটু ধুলো। এ রকম নাগরিক সমস্যাসংকুল এ দুটি ওয়ার্ডে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ডিএনসিসির উপনির্বাচন। এ সময়ে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সামনে রেখে দুটি ওয়ার্ডেই কাউন্সিলর প্রার্থীদের শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ। ওয়াদা দিচ্ছেন- নির্বাচিত হলে এলাকার এসব সমস্যা সমাধান করবেন। সেভাবে জনসংযোগও চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

জানা গেছে, ভাটারার পশ্চিম নূরেরচালা, পূর্ব নূরেরচালা, পশ্চিম ও পূর্ব খিলবাড়িরটেক নিয়ে হয়েছে ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড। ছোলমাইদ, উত্তর ও দক্ষিণ নয়ানগর নিয়ে গঠিত হয়েছে ৪০ নম্বর ওয়ার্ড। ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডে এরই মধ্যে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন সাতজন। তারা হলেন- ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ও জাতীয় শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক বরকত খান, ভাটারা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সহিদুল আমিন খন্দকার, ভাটারা থানা জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি কাউছার রহমান, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সদস্য শফিকুল ইসলাম, ভাটারা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নবিয়ার হোসেন, সাবেক ছাত্রনেতা ফরিদ আহমেদ ও জাতীয় পার্টির সমর্থনে আমীর আলী।

এই ওয়ার্ডের নূরেরচালা, বউবাজার, সাইদনগর, খিলবাড়িরটেক এলাকার বাসিন্দারা জানান, ভাটারা থানার অন্তর্ভুক্ত এই এলাকায় উন্নয়নের কোনো ছোঁয়াই লাগেনি। এখানকার বেশিরভাগ সড়ক এখনও কাঁচা ও সরু। স্বাভাবিকভাবে যান চলাচলের কোনো উপায় নেই। অনেক রাস্তায় দুটো রিকশাও পাশাপাশি চলতে পারে না। গ্যাস-পানির সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এলাকাবাসী।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী বরকত খান বলেন, 'আনিসুল হক মারা যাওয়ার পর প্রথম দফা তফসিল ঘোষণার পর থেকেই মাঠে নেমেছি আমি। ৩৯ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার পাশাপাশি মানুষের সেবা করছি। কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করিনি কখনও। নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন করে আধুনিক ওয়ার্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই হবে আমার প্রথম কাজ।'

আরেক প্রার্থী সহিদুল আমিন খন্দকার বলেন, 'আমার বাবাও ওই এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা ছিলেন। পৈতৃকভাবেই আমরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। অনেক দিন ধরেই এ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। সব সময়

জনগণের পাশে থেকে সেবা করে চলেছি। নির্বাচিত হলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মাদক, জলজট, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত একটি আধুনিক ডিজিটাল ওয়ার্ড গড়ে তুলব।'

এদিকে ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থী হয়েছেন ভাটারা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম ঢালী, ভাটারা আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক রাশেদ খন্দকার, ভাটারা থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মারফত আলী, ভাটারা থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার হোসেন ও ইকবাল হোসেন খন্দকার। আক্তার হোসেন বলেন, 'সাত বছর ভাটারা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বারের দায়িত্ব পালন করেছি। চেষ্টা করেছি মানুষের পাশে থাকার। কেউ কোনো বিপদে পড়লে তার পাশে দাঁড়িয়েছি। কাজেই জনগণ আমাকে ভালোবাসে। এলাকায় কিছু নাগরিক সমস্যা তো আছেই। সেগুলো সমাধানের চেষ্টা করব। পাশাপাশি নির্বাচিত হলে ওয়ার্ডে একটি কমিউনিটি সেন্টার, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, খেলার মাঠ, কাঁচাবাজার, ব্যায়ামাগার, সরকারি স্কুল-কলেজ স্থাপন ছাড়াও মাদকমুক্ত পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড গড়ে তুলব।'

নজরুল ইসলাম ঢালী বলেন, 'এলাকার নাগরিক সমস্যাগুলো এরই মধ্যে অনেকটাই নিরসন হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হলো মাদকের। ইয়াবার বিরুদ্ধে সরকার যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। নির্বাচিত হলে পরিচ্ছন্ন ও মাদকমুক্ত ওয়ার্ড গঠন করাই হবে আমার লক্ষ্য।'

স্থানীয় সংসদ সদস্য এ কে এম রহমতুল্লাহ বলেন, 'ওই এলাকায় এখন আর বড় কোনো নাগরিক সমস্যা নেই। পাঁচ দফা এমপি থাকার সুবাদে এলাকার চেহারা অনেক পাল্টে দিয়েছি। একটা সমস্যা আছে- অপরিকল্পিত নগরায়ন। এখানে পাড়া-মহল্লার রাস্তাগুলো সংকুচিত। যে কারণে গাড়ি সাবলীলভাবে চলতে পারে না। কিন্তু রাস্তাগুলো চওড়া করতে গেলে ঘরবাড়ি ভাঙতে হবে। সেটা তো আর সম্ভব নয়। অথবা ঘরবাড়ি অধিগ্রহণ করতে হবে। সেটা করতে গেলে অনেক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সিটি করপোরেশনের ভেতরে আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত হলে এত অপরিকল্পিত নগরায়ন হতো না। অতীতে রাজউকও তৎপর ছিল না। যে কারণে যে যেভাবে পেরেছে ঘরবাড়ি গড়ে তুলেছে। এ ছাড়া আরেকটি সমস্যা আছে মাদক, যা সারাদেশেরই সমস্যা। তবে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় মাদক অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।'