চাকরির নামে অর্থ আত্মসাৎ ময়মনসিংহে প্রতারক চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

ময়মনসিংহ ব্যুরো

ময়মনসিংহ আদালতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ১১ জনের কাছ থেকে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার গলগণ্ডা এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলো জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা শাকিল আহম্মেদ (৩০) ও জোসনা মিয়া (২৮)। তাদের কাছ থেকে জেলা জজ আদালতের পোশাক, ভুয়া আইডি কার্ড, হাজিরা খাতাসহ আইন ও বিচার বিভাগীয় মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন ভুয়া দলিল এবং প্রতারণার

নানা সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

জেলা ডিবি পুলিশের ওসি মোহাম্মদ শাহ কামাল আকন্দ জানান, প্রতারক শাকিল ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কর্মচারী ও বিচারক ড. আমির উদ্দিনের কাছের লোক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিত। জোসনা মিয়া, আবদুল জলিল ও রাশেদ শাহরিয়ারের মাধ্যমে সে অনেক যুবককে বিভিন্ন পদে চাকরির আশ্বাস দেয়। তাদের মধ্যে আবদুল জলিল নিজেকে বাংলাদেশ সচিবালয়ের একজন ক্ষমতাধর কর্মকর্তা হিসেবে প্রচার চালায়।

গত ২৭ জানুয়ারি প্রতারকরা ময়মনসিংহ জেলা জজ আদালতের স্টিকার লাগানো একটি গাড়িতে কয়েক যুবককে সুপ্রিম কোর্টে নিয়ে যায়। তাদের ভবনের দ্বিতীয় তলার বারান্দায় দাঁড় করিয়ে রেখে চাকরির আইডি কার্ডে স্বাক্ষর নেয় ও সাত দিনের মধ্যে তাদের চাকরিতে যোগ দিতে বলে। গত ৩০ জানুয়ারি ময়মনসিংহের গলগণ্ডা এলাকার একটি বাসায় গিয়ে প্রতারকদের টাকা দেন ওই যুবকরা। ওই সময় ময়মনসিংহ জেলা জজ আদালতে চাকরি হয়েছে জানিয়ে তাদের কোর্টের কর্মচারীর পোশাকও দেওয়া হয়। কিন্তু টাকা আদায়ের পর তাদের কয়েক দিন ধরে ওই বাড়িতেই আটকে রাখা হয়। এতে সন্দেহ হলে আজম নামে একজন চাকরিপ্রত্যাশীদের কৌশলে বাড়িটি থেকে বের হন। পরে তিনি বিষয়টি ডিবি পুলিশকে জানান।

ওসি আরও জানান, খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই বাড়িটিতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। সেখান থেকে চাকরিপ্রত্যাশীদের উদ্ধারসহ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।