শিশুকে ভিটামিন 'এ' খাওয়ান

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

ডা. আবু সাঈদ শিমুল

কনসালট্যান্ট

শিশু বিভাগ

মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

শিশুকে ভিটামিন এ খাওয়ানোর জন্য প্রায়ই পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা। আমরা জানি, পৃথিবীতে অন্ধত্বের চারটি প্রধান কারণের মধ্যে ভিটামিন এ-এর অভাবজনিত অন্ধত্ব একটি। বাকি কারণগুলো হলো- ছানি, ডায়াবেটিসজনিত চক্ষুরোগ ও গ্লুকোমা। ভিটামিন এ-এর অভাবে চোখের অনেক ক্ষতি হয়। যখন রোগের তীব্রতা বেড়ে কর্নিয়ায় ক্ষত করে তখন অন্ধত্বের দিকে ধাবিত হয় শিশুরা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি চিকিৎসায় ভালো হয় না। তাই শিশুকে ভিটামিন এ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াতে হবে। সাধারণত শূন্য থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুরা ভিটামিন এ-এর অভাবজনিত কারণে চোখের রোগে বেশি ভোগে। খাবারে ভিটামিন এ-এর স্বল্পতা হলে

যেমন বিভিন্ন রোগ হয়, তেমনি পরিপাকতন্ত্রের রোগ- যেমন দীর্ঘমেয়াদি ডায়রিয়ার কারণে খাদ্যনালিতে ভিটামিন এ-এর শোষণ ক্ষমতা হ্রাস পেলেও শরীরে ভিটামিন এ-এর ঘাটতি দেখা দেয়। দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ত্বকের শুস্কতা দূর করতেও ভিটামিন এ প্রয়োজন। গর্ভবস্থায় শিশুর বৃদ্ধিতে ভিটামিন এ গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন এ-এর প্রধান উৎস প্রাণিজ খাদ্য যেমন- কলিজা, ডিম, মাখন, ঘি, পনির, দুধ ও মাছ। বিভিন্ন রকম মাছ বিশেষ করে মাছের তেলে প্রচুর ভিটামিন এ থাকে। ছোট মাছ বিশেষ করে মলা, ঢেলায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ পাওয়া যায়। সবুজ শাকসবজি ও পাকা ফলে প্রচুর ভিটামিন এ থাকে। লালশাক, ডাঁটাশাক, পুঁইশাক, কলমিশাক, মটরশাক, লাউশাক, শজিনাশাক, মিষ্টি কুমড়া, গাজর, টমেটো, পাকা পেঁপে, আম, কাঁঠাল, তরমুজ ইত্যাদি ভিটামিন এ-এর উৎকৃষ্ট উৎস। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবে শিশুদের ভিটামিন এ-যুক্ত খাবার খাওয়ানো হয় না। ভিটামিন এ শরীরে তৈরিও হয় না। আর এ কারণেই শরীরে ভিটামিন এ-এর অভাব থাকলে শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো প্রয়োজন। আজ শনিবার ছয় থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের ও ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের একটি করে ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। আপনার শিশুর বয়স যদি ছয় মাসের বেশি এবং পাঁচ বছরের কম হয় তবে তাকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াতে কেন্দ্রে নিয়ে আসুন।