মাদক সন্ত্রাস জঙ্গি নির্মূলের প্রতিজ্ঞা

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

আতাউর রহমান

মাদক ও জঙ্গি-সন্ত্রাস নির্মূলের প্রতিজ্ঞা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোরতা, হয়রানিমুক্ত সেবা এবং আরও জনবান্ধব পুলিশিংয়ের আশ্বাসে শেষ হয়েছে পুলিশ সপ্তাহ-২০১৯। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের সঙ্গে বিভিন্ন বৈঠক এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ সেশনের মধ্য দিয়ে গতকাল শুক্রবার পাঁচ দিনব্যাপী পুলিশ সপ্তাহের সমাপ্তি হয়। শেষ দিনে ঢাকার বাইরের পুলিশ কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে 'রাউন্ডআপ কনফারেন্স' অনুষ্ঠিত হয়। গত ৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ প্যারেড গ্রাউন্ডে পুলিশ সপ্তাহের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উৎসবমুখর পরিবেশে পুলিশ সপ্তাহে একগুচ্ছ

দাবি পূরণের আশ্বাস নিয়ে কর্মস্থলে ফিরে গেছেন

এই বাহিনীর সদস্যরা।

পুলিশ সূত্র জানায়, রাউন্ডআপ কনফারেন্সের আগে গতকাল সকালে রাজারবাগে পুলিশ অডিটোরিয়ামে আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী পুলিশ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন। এ সময় পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানসহ মন্ত্রী ও সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে আগামী এক বছরে পুলিশ বাহিনীর কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সে অনুযায়ী চলতি বছর দৈনন্দিন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি দেশব্যাপী মাদক নির্মূলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। বিগত বছরগুলোতে জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ দমনে সফলতা থাকায় পুলিশ সপ্তাহের প্রায় সব সেশনেই বিষয়টি প্রশংসিত হয়েছে। তবে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে এবারও পুলিশ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছে।

পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পুলিশ কর্মকর্তারা নিয়মিত পদোন্নতি, বিভিন্ন রাষ্ট্রে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনে পুলিশ কর্মকর্তা নিয়োগ, মাদক নির্মূলে বিশেষ ইউনিট ও ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব, অবসরের পরও আমৃত্যু পুলিশ সদস্যের পরিবারের অন্তত দু'জন সদস্যকে রেশন সুবিধা দেওয়া, পুলিশের জন্য আলাদা একটি ক্রীড়া কমপ্লেক্স তৈরি, পুলিশ মেডিকেল কোর প্রতিষ্ঠা, বিভাগীয় হাসপাতালে পুলিশ সদস্যদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ), জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো, গ্রেডভিত্তিক ভাতা বৃদ্ধি, পুলিশের এসআই ও পরিদর্শকদের মোটরসাইকেলের জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা দেওয়া ও ট্রাফিক ভাতা সমন্বয় করা, ফায়ারিং রেঞ্জ নির্মাণে বরাদ্দসহ নানা প্রস্তাব ও দাবি-দাওয়া তুলে ধরেন। প্রায় সব দাবি পূরণে সরকারের আশ্বাস ও প্রতিশ্রুতিতে পুলিশ কর্মকর্তারাও উজ্জীবিত হয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নে বরাবরই উদার। শেষ হওয়া পুলিশ সপ্তাহেও তিনি সে মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। এ জন্য বাহিনীর সদস্যরাও আনন্দিত ও উজ্জীবিত। এটা কর্মক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের কর্তব্য ও দায়িত্ববোধ আরও বাড়িয়ে দেবে। সার্বিকভাবে চাঙ্গা মনোভাব নিয়েই গতকাল পুলিশ কর্মকর্তারা নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে গেছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাব ও বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে সরকারপ্রধানের প্রতিশ্রুতি মেলায় পুলিশ সদস্যরা উজ্জীবিত হলেও বিভিন্ন সেশন ও বৈঠকে রাষ্ট্রপ্রধান এবং সরকারপ্রধানের দেওয়া নির্দেশনাগুলোও মাথায় রেখেছেন তারা। বিশেষ করে মাদক নির্মূলে পুলিশ আরও বেশি কঠোর হচ্ছে।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে

গত ৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সেবাপ্রত্যাশী মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সেদিকে গুরুত্ব দিয়ে পুলিশকে আরও জনবান্ধব হওয়ার আহ্বান জানান। এর আগে পুলিশ সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন ৫ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুলিশ কর্মকর্তাদের মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। সে দিন তিনি সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পুলিশ বাহিনীকে আরও জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জনগণের মাঝে বিশ্বাস ও আস্থা তৈরি করার নির্দেশ দেন।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বর্তমান সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীর আধুনিকায়নের কারণে সেবার ধরন ও মানে পরিবর্তন এসেছে। পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানের দেওয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নে বাহিনীর সদস্যরা বদ্ধপরিকর। এ ছাড়া পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে বাহিনীপ্রধান আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী মাদকের সঙ্গে পুলিশ সদস্যরা জড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। থানাকে সেবার কেন্দ্রবিন্দু বানাতে বলেছেন তিনি। পুলিশ সপ্তাহ শেষে এসব বার্তা বাস্তবায়নের প্রতিজ্ঞা নিয়েই জেলা পুলিশ সুপারসহ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে ফিরে গেছেন।