চট্টগ্রামে ১৩ লাখ ইয়াবার মামলায় চার্জশিট

ধরাছোঁয়ার বাইরে নাটের গুরু রহিম

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম

মিয়ানমারের নাগরিক আবদুর রহিম বাংলাদেশ, সৌদি আরব, দুবাই ও মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনে ইয়াবা বাণিজ্যের শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। এই তিন দেশ ঘুরে ঘুরে কোটি কোটি টাকার রমরমা ইয়াবা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে সে। তবে ইয়াবা ব্যবসার এই নাটের গুরু বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে। এর আগেও র‌্যাবের হাতে জব্দ ২০ লাখ ইয়াবার চালান পাঠিয়েছিল রহিম। টানা ১১ বছর সে বাংলাদেশে ইয়াবা পাঠায়। রেদোয়ান তার কাছ থেকে ১২টি ইয়াবার বিশাল চালান আনে। সে এখনও রেদওয়ানের কাছে ১৪ কোটি টাকা ও সাইফুল করিমের (সিআইপি) কাছে সাত কোটি টাকা পায়। চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় দায়ের করা ১৩ লাখ ইয়াবা উদ্ধারের মামলার তদন্তে উঠে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে ১৩ জন ইয়াবা গডফাদার ও ব্যবসায়ীকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তদন্তে নাম এলেও রহিম এবং লা মিম মিয়ানমারের নাগরিক হওয়ায় চার্জশিট থেকে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে।

চার্জশিটে অভিযুক্তরা হলো- মিয়ানমারের নাগরিক রহিমের ভাতিজা টেকনাফের বাসিন্দা রেদোয়ান ওরফে জুবায়ের, রহিমের শ্যালক টেকনাফের বাসিন্দা রাশেদ ওরফে মুন্না, হাবিুবর রহমান, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির আশরাফ আলম, তার ভাই মো. হাসান, টেকনাফের সাইফুল করিম (সিআইপি) ও নুরুল আলম, খাগড়াছড়ির মানিকছড়ির বাসিন্দা মো. আলম ওরফে মৌলভি আলম, আনোয়ারার

বাসিন্দা সোলায়মান মাঝি, মো. আনোয়ার, কামরুল হোসেন সুমন, আবদুল জব্বার প্রকাশ পট্টিবদ ও সীতাকুণ্ডের শহিদুল ইসলাম। এর মধ্যে সাইফুল, আলম, আনোয়ার, সুমন, জব্বার ও শহিদুল পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বাকিরা গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সময় রেদোয়ানকে ঢাকা শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এসআই ফরহাদ হোসেন জানান, তদন্তে ১৩ জন ইয়াবা গডফাদার ও শীর্ষ ব্যবসায়ীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে নাম এলেও রহিম ও লা মিম মিয়ানমারের নাগরিক ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা না পাওয়ায় তাদের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালত গত ২৬ ডিসেম্বর চার্জশিটটি আমলে নেন। এখন বিচার শুরুর জন্য মহানগর হাকিম আদালত থেকে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটি স্থানান্তর করার কথা।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৩ মে চট্টগ্রামের হালিশহর শান্তিবাগ শ্যামলী আবাসিকের জেডএস অ্যাঞ্জেল বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলার ফোর-বি ফ্ল্যাট থেকে ১৩ লাখ পিস ইয়াবাসহ আশরাফ ও হাসান নামে দুই ভাইকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনায় ৪ মে হালিশহর থানায় মাদক আইনে মামলা করা হয়। আশরাফ ও তার ভাইয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পরে চান্দগাঁও এলাকা থেকে মুন্নাকে গ্রেফতার করা হয়। এরই মধ্যে আশরাফ ও মুন্না চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। এরপর তদন্তে বের হয়ে আসে ইয়াবা ব্যবসার বিশাল সিন্ডিকেটের তথ্য।

চার্জশিটে পুলিশ উল্লেখ করেছে, ২০১৮ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকা থেকে বিমানে রেঙ্গুনে যায় আশরাফ। সেখানে গিয়ে রহিম ও লা মিমের সঙ্গে দেখা করে সে। রহিম ও লা মিম তাকে ১৩ লাখ ইয়াবার চালান বুঝিয়ে দেয়। চালান নিয়ে রেঙ্গুন থেকে সাগরপথে গত ২ মে আশরাফ চট্টগ্রামের ভাটিয়ারি হয়ে হালিশহরের বাসায় পৌঁছায়। পরে ধরা পড়ে সে।

চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়, বিদেশে থাকা অবস্থায় আশরাফ ও রহিমের দেখা হয়। তারপর দেশে ফিরে একসঙ্গে ইয়াবা ব্যবসা শুরু করে। বাংলাদেশে পাঠানো ইয়াবার টাকা হুন্ডির মাধ্যমে রহিমের কাছে চলে যেত দুবাই। একজন সে অর্থ তুলে ফিরতি হুন্ডিতে পাঠিয়ে দিত মিয়ানমারে।