সড়কে অপমৃত্যুকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণার দাবি

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

সড়কে অপমৃত্যুকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে অবিলম্বে জরুরি অবস্থা জারির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক-শিক্ষার্থী-পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। রাজধানীর উত্তরায় মাইক্রোবাসচাপায় স্কুলছাত্রী ফাইজা তাহসিন সূচি হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন ও শোকসভায় এ দাবি জানান তারা।

গতকাল শুক্রবার উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের ১০ নম্বর ব্রিজে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ওই ব্রিজের কাছেই দুর্ঘটনার শিকার হয় ফাইজা। চার দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও দায়ী চালককে গ্রেফতার করতে না পারায় 'উত্তরা ১৮ নং সেক্টরের ফ্ল্যাট মালিকবৃন্দে'র ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

দৈনিক ইত্তেফাকের সহকারী সম্পাদক ফাইজুল ইসলামের মেয়ে ফাইজা ছিল পঞ্চম শ্রেণির মেধাবী ছাত্রী। স্থানীয় মাইলস্টোন স্কুলে পড়ত সে। গতকাল শোকসভায় 'নিরাপদ সড়ক চাই' আন্দোলনের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, এ দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় যত মানুষ মারা যায় কোনো দেশে যুদ্ধেও এত মানুষ মারা যায় না। তাই অবিলম্বে এ ব্যাপারে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা দরকার।

সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সবাই দায়ীদের মৃত্যুদণ্ড চান। অথচ সংসদে পাস হওয়া এ সংক্রান্ত আইনে পাঁচ বছরের সাজা ঘোষণা করার পরে সেই আইন এখনও কার্যকর হয়নি। এখন এটিকে জামিনযোগ্য করার জন্য চালকরা অন্যায় দাবি জানিয়ে আসছেন। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে শোকাহত বাবা ফাইজুল ইসলাম সভায় কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় উপস্থিত অন্যদের চোখেও পানি এসে যায়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে ফাইজুল বলেন, ব্রিজে যদি স্পিডব্র্রেকার (গতিরোধক) থাকত, তাহলেও হয়তো আমার মেয়েটা বেঁচে যেত। এখানে গাড়ির গতি এত বেশি কেন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আগে মিরপুরে থাকতাম। সেখানে এতটা গতির সঙ্গে পরিচিত ছিলাম না। এ এলাকায় এসেছি বেশিদিন হয়নি। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক হিসেবে বহুবার দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে লিখতে হয়েছে। মেয়ের মৃত্যুর পর আজীবন এ পেশাতেই থাকার কথা ব্যক্ত করেন তিনি। মানববন্ধনে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়। এ সময় তাদের হাতে সড়ক দুর্ঘটনাবিরোধী বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড শোভা পায়। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে স্লোগান ওঠে- 'নিরাপদ সড়ক চাই, সূচি হত্যার বিচার চাই', 'বাবার কাঁধে মেয়ের লাশ, চাই না চাই না'। এ সময় সূচির স্মরণে এক মিনিট নীরবতা ও দোয়া মোনাজাত করা হয়।

কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক এস এম আজাদ, ইত্তেফাকের সাবেক বার্তা সম্পাদক সাহাব উদ্দিন ভূঁইয়া, ড. আব্দুল মুনিম খান, স্থানীয় ফ্ল্যাট মালিক সমিতির পক্ষে হামিদুর রহমান, সালাউদ্দিন কাউছার প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, সূচির দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের পাশে একজন অভিনেতা বসা ছিলেন। তাদের গাড়ি ও মোবাইল হস্তগত করা গেলেও এখনও দায়ীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়নি। সড়কে অপমৃত্যুকে জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করে পদক্ষেপ নিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।