ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা

ঠাঁই নাই,ঠাঁই নাই

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ঠাঁই নাই,ঠাঁই নাই

শুক্রবার ছুটির দিনে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপচেপড়া ভিড় - সমকাল

মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শেষ হচ্ছে আজ। মেলা শেষের আগে গতকাল শুক্রবার শেষ ছুটির দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড়ে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। শেষ বেলায় বিভিন্ন পণ্যে চলছে আকর্ষণীয় মূল্যছাড়। বেচাকেনাও হচ্ছে জমজমাট। ব্যাগভর্তি পণ্য নিয়ে ফিরতে দেখা যায় ক্রেতাদের। খাদ্যপণ্য, পোশাক, আসবাব, কসমেটিকস, গৃহস্থালি সামগ্রীসহ সব পণ্য বেচাকেনার রীতিমতো হিড়িক পড়ে ছুটির দিনে।

চব্বিশতম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা গতকাল শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আরও একদিন বাড়িয়ে দেওয়ায় আজ শনিবার শেষ হচ্ছে মেলা। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। এ অনুষ্ঠানে মেলায় অংশ নেওয়া সফল প্রতিষ্ঠানের স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোকে ক্রেস্ট ও সনদ দেওয়া হবে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের অনুষ্ঠিত এ মেলা প্রাঙ্গণ গতকাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সকাল থেকেই মেলার ক্রেতারা ভিড় করেন। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই মেলা প্রাঙ্গণ ভরে যায় ক্রেতা-দর্শনার্থীতে। সন্ধ্যার আগেই মেলায় প্রবেশ করা দুরূহ হয়ে পড়ে। শুধু মেলা প্রাঙ্গণ নয়, মেলা মাঠের চারদিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিড় ঠেলেও দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়েছে ক্রেতা সাধারণকে। টিকিট নিয়ে মেলায় ঢুকতে হিমশিম খেতে হয়েছে দর্শনার্থীদের।

তবে মেলায় স্বস্তিতে ঢুকতে অনেকেই বেশি টাকা দিয়ে টিকিট নিয়ে ভিআইপি গেট দিয়ে প্রবেশ করেছেন। জনপ্রতি ৩০ টাকার টিকিটে আরও ২০ টাকা বাড়তি নিয়েছে মেলার গেট ইজারাদার। প্রতি টিকিট ৫০ টাকায় কিনেও সুবিধা করতে পারেননি। কিন্তু ভিআইপি গেট দিয়ে ঢুকতে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হয়েছে দর্শনার্থীদের। এই ভিড়ের মধ্যে মেলা মাঠে বসেছে নানা হকার। গৃহস্থালি সামগ্রী, খেলনা, পোশাকসহ নানা পণ্য মেলার ফুটপাতে অবৈধভাবে বিক্রি করছে। নাম প্রকাশ না করে এক হকার জানিয়েছেন, মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে তাদের মেলায় ঢুকতে হয়েছে। বিক্রি ভালো থাকায় তা পুষিয়ে নিতে পারবেন।

মেলার শুরুতে বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ইটালিয়ানো তাদের নির্দিষ্ট কিছু ক্রোকারিজ পণ্যে ২০ শতাংশ ছাড় দেয়। গতকাল দেখা যায়, বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ ছাড়ে বিক্রি হচ্ছে। আগের চেয়ে বাড়িয়ে এখন ৫০ শতাংশ ছাড়ে জুতা বিক্রি করছে র‌্যাভেঞ্জ প্যাভিলিয়ন। মেলায় হকারদের চাপে কিছু প্রতিষ্ঠানের কেনাবেচা কমেছে। এ কারণে তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে বিক্রি করতে হচ্ছে।

শেষ সময়ে মেলায় ওড়না-হিজাব একশ' টাকা, শাল দেড়শ' এবং ওয়ান পিস দুইশ' টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একাধিক প্রতিষ্ঠান স্টলে কাগজে লেখা স্টিকার ঝুলিয়ে এভাবে ওড়না-হিজাব, শাল এবং ওয়ান পিস বিক্রি করছে। তবে মেলায় একশ' টাকায় যেসব ওড়না-হিজাব বিক্রি হচ্ছে সেগুলোর মান তেমন ভালো নয়।

এবার মেলার শুরুতে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে 'ফাটাফাটি' ও 'গোল্ডেন' অফার দিয়েছে ব্লেজারের স্টলগুলো। শেষ সময়ে এখন এসব প্রতিষ্ঠান 'রাজকীয়' অফার দিচ্ছে। এসব অফারে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বেশ

উন্নতমানের ব্লেজার।

প্রাণ, স্কয়ার, বেঙ্গল, নাবিস্কো, দিল্লি অ্যালুমিনিয়াম, কিয়ামসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য ও গৃহস্থালি সামগ্রীর প্যাভিলিয়নগুলোতে ঢোকা ছিল দায়। এই ভিড়ে পণ্য দেখে যাচাই করে কেনার সুযোগ তেমন একটা ছিল না। যে পণ্য পছন্দ হয়েছে হাতে নিয়ে দাম দিয়ে ফিরেছেন ক্রেতারা। অনেককে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে স্টলের বাইরে অপেক্ষা করে ফিরে যেতেও দেখা গেছে। প্রাণের স্টলের বিক্রেতা শাহিন আহমেদ জানান, গত এক মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়েছে। অন্যান্য ছুটির দিনে ভিড় হলেও বেচাকেনা ছিল কম; কিন্তু গতকাল দ্বিগুণের বেশি বিক্রি হয়েছে।

মেলায় জমজমাট কেনাবেচা হলেও ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা হয়েছে। গত এক মাসে ৫১ প্রতিষ্ঠানকে চার লাখ ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ভোক্তা অধিদপ্তরের ঢাকা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শাহনাজ সুলতানা জানান, মেলায় অভিযান চালিয়ে ৪১টি প্রতিষ্ঠানকে দুই লাখ ৯৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ভোক্তা অধিকারের স্টলে বিভিন্ন পণ্যের ক্রেতারা নানা বিষয়ে ৩৮টি অভিযোগ দিয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ১০টি প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ ৪৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বাকি অভিযোগগুলোর মধ্যে কিছু সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। এই জরিমানার ২৫ শতাংশ হিসেবে ৩৭ হাজার টাকা অভিযোগকারীদের দেওয়া হয়েছে।