বরিশালে ইউএনও-চেয়ারম্যানদের সঙ্গে ডিসির সভা

প্রকল্পের কাজ যথাসময়ে করার নির্দেশ

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বরিশাল ব্যুরো

বরিশালের ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ হয় না। ওয়ারিশ সনদ প্রদানেও মানা হচ্ছে না বিধি। ফলে জনসংখ্যার হিসাবের তথ্যে গরমিল পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার সাপোর্ট কর্মসূচিও (এলজিএসপি) যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয় না। গতকাল সোমবার বরিশাল জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এমন তথ্য তুলে ধরা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক এসএম অজিয়র রহমান। জেলার প্রায় সব ইউএনও এবং ইউপি চেয়ারম্যান সভায় অংশ নেন।

বরিশাল সদরের জাগুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আলম চৌধুরী জানান, ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জেলায় জনসংখ্যা ছিল ২৪ লাখ। জেলা প্রশাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে যে তথ্য সংগ্রহ করেছে, তাতে জনসংখ্যা ৩১ লাখ। হিসাবের এই সাত লাখের পার্থক্য নিয়ে সভায় আলোচনা হয়।

সভায় উপস্থিত একাধিক চেয়ারম্যান জানান, বেশিরভাগ ইউনিয়নে জন্ম-মৃত্যুর নিবন্ধন তথ্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা হয় না। বিশেষ করে মৃত্যু সনদে গাফিলতি হয় বেশি। বয়স কমানোর জন্য একই ব্যক্তি একাধিক নামে জন্মনিবন্ধন করেন। এসব কারণে আদমশুমারি ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জেলা প্রশাসকের দপ্তরে সংগৃহীত জনসংখ্যার তথ্যে প্রায় সাত লাখের গরমিল হয়েছে।

সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আরিফুজ্জামান মুন্না জানান, সভায় অংশগ্রহণকারী প্রায় সব চেয়ারম্যান জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেছেন- সার্ভার সমস্যা এবং ইন্টারনেটের গতি কম থাকায় সনদ নিবন্ধনে ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্বরতদের অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

সভার সঞ্চালক স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, সভায় এলজিএসপির সব প্রকল্প যথাসময়ে বাস্তবায়ন, ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বৃক্ষরোপণের ওপর গুরুত্ব আরোপসহ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ইউপি চেয়ারম্যানদের নানা দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।