শজিমেক হাসপাতালের ক্যাফেটেরিয়া ভাংচুর কর্মচারীদের পিটুনি

ছাত্রীর খাওয়ার দৃশ্যের ভিডিও ধারণ

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বগুড়া ব্যুরো

সহপাঠী ছাত্রীর খাওয়ার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের ক্যাফেটেরিয়ায় ভাংচুর চালিয়েছেন ময়মনসিংহের সরকারি আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থীরা। গতকাল সোমবার দুপুরে ভিডিও ধারণকারী ক্যাফেটেরিয়ার দুই কর্মচারীকেও বেধড়ক পিটিয়েছেন তারা। বাধা দিতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন শজিমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ও কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক। পরে পুলিশ সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ জানায়, ময়মনসিংহ সরকারি আনন্দ মোহন কলেজের দর্শন বিভাগের পক্ষ থেকে সোমবার বগুড়ার মহাস্থানগড়ে শিক্ষা সফরের আয়োজন করা হয়। বিভাগটির দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী খাবার খেতে দুপুর দেড়টার দিকে শজিমেক হাসপাতালের ক্যাফেটেরিয়ায় যান। 'আকবরিয়া হোটেল' নামে বগুড়া শহরের একটি প্রতিষ্ঠান ইজারা নিয়ে ক্যাফেটেরিয়াটি পরিচালনা করে।

বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক মঞ্জুরুল হক ভূঁইয়া জানান, শিক্ষার্থীরা খাওয়ার সময় ক্যাফেটেরিয়ার দুই কর্মচারী কয়েকজন ছাত্রীর খাওয়ার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও করছিল। বিষয়টি জানতে পেরে তাদের সহপাঠীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা তাৎক্ষণিক ক্যাফেটেরিয়ায় ভাংচুর শুরু করেন। ওই সময় সেখানে খেতে আসা শজিমেক হাসপাতালের কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসকও লাঞ্ছিত হন। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এক পর্যায়ে ভিডিওধারণকারী নাজমুল ও শাহারুল নামে দুই কর্মচারীকে বেধড়ক  পিটুনি দেন।

খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য শজিমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আবদুল ওয়াদুদ কয়েকজন কর্মচারী নিয়ে ক্যাফেটেরিয়ায় যান। উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা তাদেরও লাঞ্ছিত করেন। হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ফয়সাল জানান, হাসপাতালের সহকারী পরিচালকসহ চিকিৎসকদের মারপিট করার খবর পেয়ে তারা এবং আনসার সদস্যরা একজোট হয়ে ঘটনাস্থলে যান। তারপর আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই সময়ই পুলিশ এসে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

ক্যাফেটেরিয়ার ব্যবস্থাপক রাশেদুল ইসলাম জানান, হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সসহ স্টাফ এবং রোগী ও তাদের স্বজনদের দিয়ে এই ক্যাফেটেরিয়া চালানো হয়। এর বাইরে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে কখনই একসঙ্গে খাওয়ানো হয়নি। হোটেলের মালিক পক্ষের নির্দেশে সোমবার দুপুরে আনন্দ মোহন কলেজের ১৭৪ শিক্ষার্থীর খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। ময়মনসিংহ সরকারি আনন্দ মোহন কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক আশরাফুজ্জামান জানান, বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তারা বগুড়ার মহাস্থানগড়ে শিক্ষা সফরে যাচ্ছিলেন। পথে দুপুরের খাবারের জন্য তারা শজিমেক হাসপাতালের ক্যাফেটেরিয়ায় গিয়েছিলেন।

বগুড়া সদর থানার ওসি এসএম বদিজ্জামান জানান, বিকেলে হাসপাতাল প্রশাসনের উপস্থিতিতে এ ঘটনায় জড়িত তিন পক্ষই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা মামলা না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বগুড়ায় পুলিশের মিডিয়া বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, ঘটনার পরপরই হাসপাতাল প্রশাসন সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসে। সেখানেই সমঝোতা হয়। শজিমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম রসুল জানান, ক্যাফেটেরিয়া পরিচালনায় যুক্ত প্রতিষ্ঠানটি বাইরের এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে খাওয়ানোর দায়িত্ব নিয়ে ভুল করেছে। বিষয়টি নিয়ে তাদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।