রাখাইনে সেনা অভিযানের প্রভাব

মিয়ানমার থেকে পশু আমদানি বন্ধ

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

রাখাইনে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হওয়ায় মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে গবাদি পশু ও কাঠ আসা বন্ধ রয়েছে। সংশ্নিষ্টরা জানায়, প্রায় এক মাস ধরে মন্দা চলছে সীমান্ত বাণিজ্যে। ব্যবসায়ীদের মাঝে বিরাজ করছে হতাশা। এতে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

গত ৪ জানুয়ারি মিয়ানমারের স্বাধীনতা দিবসে রাখাইনে বৌদ্ধ বিদ্রোহীরা চারটি পুলিশ পোস্টে হামলা চালায়। এ হামলায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সাত সদস্য নিহত হন। এরপর থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী নতুন করে অভিযান শুরু করে।

টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে গিয়ে দেখা যায়, দ্বীপের জেটি ও বাঁধের আশপাশের যেসব এলাকা দিয়ে পশু ট্রলার খালাস হতো, সেই এলাকা এখন খাঁ খাঁ করছে। এক সময় এখানে সারি সারি পশুর দেখা মিলত। দেখা যেত মানুষের ভিড়।

বাঁধের পাশে বসে থাকা আবদু শুক্কুর নামে এক ব্যক্তি জানান, 'পশু আমদানি বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাজারে মাংসের সংকট ও দাম বেড়েছে। সাধারণ জনগণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে মাংসের দামও।'

টেকনাফ উপজেলা পশু আমদানিকারক সমিতির সভাপতি আবদুল্লাহ মনির বলেন, মিয়ানমারে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হওয়ায় সে দেশের ব্যবসায়ীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। ফলে প্রায় এক মাস ধরে সে দেশ থেকে শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে পশু আসা বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি ফেব্রুয়ারি থেকে স্থলবন্দরে কাঠ আমদানিও বন্ধ রয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মূখীন হচ্ছে।

শুল্ক্ক বিভাগ সূত্র মতে, গত রোববার থেকে কক্সবাজারের টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ করিডোরে পশু আমদানির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে এর আগে গত ১ থেকে ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৯১টি গরু, ৪৪০টি মহিষ আমদানি করে ১৯ লাখ ১৫ হাজার ৫০০ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়। এরপর মিয়ানমার থেকে করিডোরে গবাদিপশুর কোনো ট্রলার আসেনি। এ ছাড়া টেকনাফ স্থলবন্দরে সীমান্ত বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়ছে। এ সময়ে বন্দরে কাঠ আমদানি কমতে থাকে এবং  ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে তা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গত জানুয়ারি মাসে টেকনাফ স্থলবন্দরে কাঠ আমদানি করে সরকার ২ কোটি ৭২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়।

পশু আমদানিকারক মোহাম্মদ শরীফ বলেন, এ বিষয়ে মিয়ানমারের ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ চলছে। সে দেশে অবস্থা স্থিতিশীল হলে পশু আমদানি আগের অবস্থায় ফিরে আসবে বলে তারা জানান।

টেকনাফ শুল্ক্ক কর্মকর্তা শংকর কুমার দাস জানান, 'গবাদি পশুর পাশাপাশি স্থলবন্দরে কাঠও আসছে না। ফলে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে রাজস্ব আদায়ের টার্গেট পূরণ নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছি। '

টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আছাদুদ-জামান চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারে নতুন করে অভিযান শুরু হওয়ায় সে দেশ থেকে করিডোরে পশু আসা এখন বন্ধ রয়েছে।'