রূপালী ব্যাংকের সাবেক জিএমসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

ভুয়া ঋণ দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বগুড়া ব্যুরো

গ্রাহকের নামে ভুয়া ঋণ উত্তোলন দেখিয়ে দুই কোটি ৬০ লাখ আত্মসাতের মামলায় বগুড়ায় রূপালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক (জিএম) জোবায়নুর রহমানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের বগুড়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রবীন্দ্রনাথ চাকী গতকাল সোমবার আদালতে ওই চার্জশিট দাখিল করেন।

একই দিন ওই মামলার চার্জশিটভুক্ত পলাতক দুই আসামি রূপালী ব্যাংকের মহাস্থান শাখার সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার (বর্তমানে জয়পুরহাট শাখায় কর্মরত) মহাতাব উদ্দীন এবং ওই ব্যাংকের একই শাখার সাবেক সিনিয়র অফিসার (বর্তমানে টিএমএস শাখায় কর্মরত) কায়দে আজমকেও গ্রেফতার করেছে দুদক। চার্জশিটে অভিযুক্ত অপর পাঁচ আসামি হলেন- রূপালী ব্যাংকের বগুড়ার মহাস্থানগড় শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক (সাময়িক বরখাস্ত) জোবায়নুর রহমান, সিনিয়র অফিসার (বর্তমানে মোকামতলা শাখায় কর্মরত) ইশরাত জাহান, মহাস্থান হাটের ইজারাদার আজমল হোসেন, জাহিদুর রহমান ও মোশাররফ হোসেন।

দুদক কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ চাকী জানান, মহাস্থান হাটের তিন ইজারাদার হাটের ইজারার জন্য ২০১৭ সালের ৬ ও ৯ এপ্রিল শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নামে দুই কোটি ৬৯ লাখ এক হাজার ৮০১ টাকা মূল্যের সাতটি পে-অর্ডারের জন্য আবেদন করেন। অথচ তারা একটি পে-অর্ডারের জন্য মাত্র নয় লাখ সাত হাজার ২৫ টাকা জমা দেন। তার পরও তাদের নামে দুই কোটি ৬৯ লাখ এক হাজার ৮০১ টাকা মূল্যের সাতটি পে-অর্ডার ইস্যু করা হয়। এর পর একই বছরের ১১ এপ্রিল ইউএনও কার্যালয় থেকে ওই পে-অর্ডারের টাকা সরকারি নির্দিষ্ট হিসাবে জমা করার জন্য সংশ্নিষ্ট ব্যাংকে পাঠান। তখন সেই ব্যাংক থেকে ক্লিয়ারেন্সের জন্য রূপালী ব্যাংক মহাস্থান শাখায় পাঠানো হয়। ওই পরিমাণ টাকা তখন ব্যাংকে না থাকায় ওই শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক জোবায়নুর রহমান জাল এফডিআরের কাগজ তৈরি করে ব্যাংকের কয়েকজন গ্রাহকের নামে ভুয়া ঋণ উত্তোলন দেখিয়ে পে-অর্ডারের ওই অর্থ সমন্বয় করেন। এ কাজে তাকে ব্যাংকের আরও চার কর্মকর্তা সহযোগিতা করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে রূপালী ব্যাংকের তৎকালীন উপমহাব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে ২০১৮ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি জোবায়নুরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। ততদিনে জোবায়নুর রহমান পালিয়ে যান। পরে র‌্যাব সদস্যরা তাকে শরীয়তপুর জেলা থেকে গ্রেফতার করেন।