বাসাবোয় ব্যবসায়ী মাহমুদ হত্যা

খুনি পরিচিত, তারপরও ধরতে পারছে না পুলিশ

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ইন্দ্রজিৎ সরকার

রাজধানীর উত্তর বাসাবো এলাকার বাসায় ঢুকে ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ আল মাহমুদকে হত্যায় সন্দেহভাজন রাকিবুল হাসান রাকিবকে দুই মাসেও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। হত্যার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে দেখেন এক নারী। সিসিটিভি ক্যামেরাতেও ধরা পড়ে তার পালানোর দৃশ্য। 'চিহ্নিত' এই খুনিকে পুলিশ এতদিনেও গ্রেফতার করতে না পারায় হতাশ হয়ে পড়েছেন নিহতের স্বজনরা। পাশাপাশি এখনও হত্যারহস্য উদ্ঘাটন না হওয়ায় তদন্তে গড়িমসির অভিযোগ করেছেন তারা।

সবুজবাগ থানার ওসি আবদুল কুদ্দুস ফকির সমকালকে বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর নিহত ব্যক্তির ভাই ফজলুল হক বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। পুলিশ আন্তরিকভাবে সেই মামলাটির তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। আসামি রাকিবকে গ্রেফতারে সম্ভাব্য স্থানগুলোয় অভিযান চালানো হয়েছে। তবে তাকে পাওয়া যায়নি। শিগগির তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর তাকে ধরা গেলে হত্যার নেপথ্যের কারণও বেরিয়ে আসবে।

গত ১৩ ডিসেম্বর মধ্যরাতে উত্তর বাসাবোর ৩৫/বি/১/১ নম্বর বাসার ষষ্ঠ তলায় খুন হন ব্যবসায়ী মাহমুদ। বুকের বাম পাশে কাঁচি ঢুকানো অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। পরে রাকিবকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা হয়। ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করে পুলিশ।

মামলার বাদী ফজলুল হক জানান, হত্যায় অভিযুক্ত রাকিব তাদের পূর্বপরিচিত। তার গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর। তিনি এক সময় বাসাবোয় মাহমুদের বাসার সামনের মেসে থাকতেন। একই এলাকায় বসবাসের সুবাদে মাহমুদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ২০১৬ সালে রাকিব মেস ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে গেলেও মাহমুদের বাসায় তার যাতায়াত ছিল। এমনকি হত্যাকাে র দু'দিন আগেও তিনি ওই বাসায় খাবার খেয়েছেন। মাহমুদের স্ত্রী পলি আক্তার ও তাদের সন্তানদের সঙ্গেও রাকিবের ঘনিষ্ঠতা ছিল। সেই রাকিব কেন মাহমুদকে খুন করেন, তা কেউই ধারণা করতে পারছেন না।

বাদী আরও জানান, গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর  সুবর্ণচরে মাহমুদের বেশ কিছু জমি রয়েছে। সেগুলোর একাংশের মালিকানা নিয়ে স্থানীয় কামাল মিয়ার সঙ্গে বিরোধ ছিল। এর জের ধরে মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করেন তিনি। বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকিও দেন। স্বজনের সন্দেহ, হত্যার ঘটনায় কামাল মিয়ার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তবে কামালের পক্ষে রাকিব এ ঘটনা ঘটান কি-না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ছাড়া সুবর্ণচরের অনেকের সঙ্গে তার আর্থিক লেনদেন ছিল। লেনদেনের বিরোধেও এ হত্যাকা ঘটে থাকতে পারে।

পারিবারিক সূত্র জানায়, হত্যার কয়েকদিন আগে মাহমুদের স্ত্রী-সন্তান গ্রামের বাড়িতে যান। ঘটনার রাতে উত্তর বাসাবোর বাসায় তিনি একাই ছিলেন। ওই ভবনের বাসিন্দা হাজেরা খাতুন মধ্যরাতে রাকিবকে রক্তাক্ত জামা পরা অবস্থায় বের হয়ে যেতে দেখেন। তিনি জিজ্ঞেস করলে রাকিব বলেন, 'ওপরে মারামারি হচ্ছে।' এরপর হাজেরা ষষ্ঠ তলায় গিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা খোলা পান। ভেতরে মাহমুদকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তিনি ঘটনাটি অন্যদের জানান।

এদিকে পাশের একটি বাসার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, রাকিব দৌড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। তার জামা-কাপড় ও হাতে রক্ত লেগে আছে। পুলিশ ওই ফুটেজ সংগ্রহ করেছে।

নিহতের ভাই ফজলুল হক বলেন, চিহ্নিত খুনিকে দুই মাসেও ধরতে না পারাটা পুলিশের ব্যর্থতা। অথবা তারা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে মামলাটির তদন্ত করছে না। এমনকি তারা হত্যার কারণও এখন পর্যন্ত জানাতে পারেনি। এটা খুবই দুঃখজনক।