পেটের ভেতর ১১৬৬ পিস ইয়াবা!

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

পেটের ভেতর ১১৬৬ পিস ইয়াবা!

গ্রেফতার তাজুল ইসলাম

রোগী নন তাজুল ইসলাম সাগর। তার পরও র‌্যাবের পাহারায় তাকে নেওয়া হলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এক্স-রে করা হলো পেটে। সুস্থ ব্যক্তির এক্স-রে ঘিরে হাসপাতালের উৎসুক কর্মচারীদের ভিড়ও বাড়ল। শেষ পর্যন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেল, তার পেটের ভেতর দানাদার শক্ত কিছু রয়েছে। এর পর বিশেষ ব্যবস্থায় সেই 'দানাদার' বস্তু বের করে বিস্মিত র‌্যাব সদস্যরাও। পাতলা পলিথিনে মোড়ানো কালো রঙের স্কচটেপ দিয়ে আটকানো ছোট ছোট পুঁটলি আর সেই পুঁটলিগুলো খুলে পাওয়া গেল ইয়াবা ট্যাবলেট। পুঁটলি আসলে একটি-দুটি নয়, ৫৩টি। এগুলো খুলে মিলল মোট এক হাজার ১৬৬টি ইয়াবা।

র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযানের মুখে মাদক ব্যবসায়ীরা ইয়াবা বহনের কৌশল পরিবর্তন করেছে।

এর আগে পেটের ভেতর মিললেও একজনের পেটে এত বেশিসংখ্যক ইয়াবা পাওয়ার নজির নেই। মাদক ব্যবসায়ী তাজুল ইসলামের পেট থেকে বের করা ৫৩ পুঁটলির প্রতিটিতে ২০টি করে ইয়াবা ছিল।

র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এমরানুল হাসান বলেন, গ্রেফতার তাজুল ইয়াবা ব্যবসার পাশাপাশি তা সেবন করে। সে নিজেই কক্সবাজার থেকে বিশেষ কায়দায় পেটের ভেতর ইয়াবা ভরে ঢাকায় এনে বিক্রি করে আসছিল। কয়েক মাস আগেও একই কায়দায় আরেকটি চালান আনে সে। সর্বশেষ তিন হাজার পিস ইয়াবার চালান ঢাকায় আনার পরিকল্পনা করে সে। এ জন্য কক্সবাজারে একটি মাদক সিন্ডিকেটের সঙ্গে তিন লাখ টাকায় চুক্তি করে। সে অনুযায়ী এক লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করে। ওই চক্রটিকেও ধরার জন্য অভিযান চলছে।

র‌্যাব জানায়, গত রোববার রাজধানীর মাতুয়াইল এলাকার একটি বাসা থেকে তাজুলকে গ্রেফতার করা হয়। ওই সময়ে তার কাছে ৫৫০টি ইয়াবা পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে সে পেটের ভেতর ইয়াবা থাকার কথা জানালে হাসপাতালে নিয়ে তার কাছ থেকে আরও এক হাজার ১৬৬ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তাজুল জানিয়েছে, ৮ ফেব্রুয়ারি সে ইয়াবা আনতে কক্সবাজার যায়। সেখানেই একটি গ্রুপ ২০ পিস করে ইয়াবা পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে তা স্কচটেপে মোড়ায়। এর পর ৫৩টি পুঁটলি বানিয়ে তা কলার ভেতর ঢোকানো হয়। পুরো কলা একবারে পেটের ভেতর ঢোকানো হয়। কক্সবাজার থেকে রোববার ঢাকায় ফেরা পর্যন্ত সে কিছু খায়নি এবং বাথরুমেও যায়নি।