ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ঢাকা-বরিশাল নৌপথ

ডুবোচর ও নাব্য সংকট

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বরিশাল ব্যুরো

ঢাকা-বরিশাল নৌপথে মেঘনার মিয়ারচর চ্যানেল দিয়ে গত বছরের ৬ আগস্ট থেকে নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। এখনও সেই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। কারণ মাঝ বরাবর ডুবোচর এবং দুই তীরে চর পড়ে চ্যানেলটি সংকুচিত হওয়ায় দোতলা লঞ্চ চলতে পারে না।

এই নৌপথে চলে এমন একাধিক লঞ্চের মাস্টাররা জানান, মেহেন্দীগঞ্জের উলানিয়া, মল্লিকপুর ও কালিগঞ্জ, হিজলার বামনির চর, ধুরখোলা ও বিশাল বয়া পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার নৌপথে অসংখ্য ডুবোচর রয়েছে। এ ছাড়া চাঁদপুরে শেওরা বয়া ও মাঝের চর চ্যানেলেও ভাটার সময় পানি কমে যায়। এ কারণে ঢাকা-বরিশাল নৌপথে যাত্রীবাহী নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ডুবোচর এবং চ্যানেল সরু হয়ে যাওয়ায় প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। গত জানুয়ারিতে যাত্রীবাহী দুটি লঞ্চের সংঘর্ষে নিহত হন এক যুবক। গত বছরের ৬ আগস্ট মিয়ার চর চ্যানেল দিয়ে নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করায় ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চলাচলকারী যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযানগুলো মেহেন্দীগঞ্জের কালিগঞ্জ হয়ে মেঘনা পাড়ি দিতে হয়। এতে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হচ্ছে তাদের। বাড়তি সময় লাগে  দেড় ঘণ্টা।

বিআইডব্লিউটিসির বরিশাল নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক আজমল হুদা মিঠু জানান, বরিশাল-ঢাকা নৌপথের মিয়ারচরে নাব্য সংকট ও ডুবোচর থাকায় যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযানগুলোকে মেহেন্দীগঞ্জের কালিগঞ্জ হয়ে ঘুরে যেতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। এতে জ্বালানি খরচও বেড়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে মিয়ারচর চ্যানেলে ড্রেজিং চলছে। পাশাপাশি বরিশাল-ঢাকা নৌপথের যেসব স্থানে সংকট রয়েছে, সেসব স্থানেও ড্রেজিং করা হবে।

ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চলাচলকারী অ্যাডভেঞ্চার-১ এর প্রধান মাস্টার জামাল হোসেন সমকালকে বলেন, মিয়ারচর চ্যানেলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ঢাকা-বরিশাল নৌপথের যাত্রীবাহী লঞ্চগুলো মেঘনার কালিগঞ্জ চ্যানেল ঘুরে আসে। কিন্তু কালিগঞ্জ সংলগ্ন লাল বয়ার পরে ডুবোচর জেগে ওঠায় তাতেও সমস্যা হচ্ছে। ওই স্থান অতিক্রম করতে হয় ধীরগতিতে।

তিনি জানান, মেঘনার বামনির চর, ধুরখোলা, আড়িয়াল খাঁর ভাষানচর ও কীর্তনখোলার বিশাল বয়া পয়েন্টে অসংখ্য ডুবোচর জেগেছে। ফলে নৌযান চালাতে হয় অতি সাবধানতার সঙ্গে। কোনো রকম ভুলত্রুটি হলেই যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। পারাবাত-১২ লঞ্চের মাস্টার শামীম আহম্মেদ জানান, ঢাকা-বরিশাল নৌপথ এখন এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।