বাংলাদেশের অগ্রগতি ধরে রাখতে জরুরি রাজনৈতিক স্থিতি

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০১৯

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা ধরে রাখতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা খুবই জরুরি। গতকাল বুধবার ঢাকায় এক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে এ কথা বলেছেন ভারতের শীর্ষস্থানীয় চিন্তাবিদদের ফোরাম অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (ওআরএফ) প্রেসিডেন্ট সমীর শরণ।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) মিলনায়তনে 'ইন্ডিয়া, বাংলাদেশ অ্যান্ড ইন্দোপ্যাসিফিক' শিরোনামে সেন্টার ফর গভর্নমেন্ট স্টাডিজ (সিজিএস) এ বক্তৃতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সিজিএস চেয়ারম্যান অধ্যাপক আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক জিল্লুর রহমান। অনুষ্ঠানে দেশের বুদ্ধিজীবী,

সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, কূটনীতি

বিশ্নেষক ও ঢাকায় কর্মরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা অংশ নেন।

বক্তৃতায় সমীর শরণ বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এ মুহূর্তে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এটি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগের পাশাপাশি আঞ্চলিক পর্যায় থেকেও কার্যকর উদ্যোগ আসা উচিত। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গা সংকট ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ তাই নিজস্ব স্বার্থকেই বেশি প্রাধান্য দেবে- এটাই স্বাভাবিক।

তিনি আরও বলেন, এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় উদ্যোগের ক্ষেত্রে চীন মূল খেলোয়াড়। চীনের বিপরীতে যারা এ অঞ্চল ঘিরে পৃথক উদ্যোগ নিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আশ্বাস ছাড়া এখন পর্যন্ত কার্যকর আর কিছু দৃশ্যমান নয়। সাম্প্রতিক সময়ে আসিয়ানের সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারতসহ কয়েকটি দেশ মিলে একটা পৃথক ইন্দোপ্যাসিফিক জোট গড়ার আলোচনা হয়েছিল। তবে সেটাও আর এগোতে দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, চীনের 'ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড' উদ্যোগে ভারত সম্পৃক্ত না হলেও এ মুহূর্তে দুই দেশের মধ্যে চমৎকার বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশই বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিনিয়োগ করেছে। এখন বাংলাদেশ চীনের উদ্যোগে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। তবে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় স্বার্থের বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

সমীর শরণ বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ স্বার্থ অনেকে ক্ষেত্রেই অভিন্ন। এ কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশ ও ভারত একই সঙ্গে দরকষাকষি করতে পারে। তিনি বাংলাদেশ ও ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রতিবেশী এ দুই রাষ্ট্রের মধ্যে যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক, তা সত্যিই বিশ্বের সামনে একটা ভালো উদাহরণ। এ দুই দেশের মানুষের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও চিন্তায় অনেক মিল। একই সঙ্গে উদার, বহুপক্ষীয় ও গণতান্ত্রিক সমাজ গড়াটাও বাংলাদেশ-ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, দুটি দেশেই এখনও মানুষের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা রয়েছে। উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদের ঝুঁকিও রয়েছে। রয়েছে গণতান্ত্রিক ও উদারনৈতিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা। এ কারণে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্নিষ্ট বিষয়ে সহযোগিতার সম্পর্কও অনেক বেশি প্রসারিত হতে পারে। ভারতের এই শীর্ষস্থানীয় চিন্তাবিদ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিসেবী- সব পর্যায়ে দু'দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি খুবই জরুরি। এ যোগাযোগ যত বাড়ানো যাবে, উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারবে দুই দেশ।