স্বর্ণ আমদানি ডিলার লাইসেন্সের নীতিমালা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

স্বর্ণ নীতিমালার পর এবার আমদানির জন্য ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। ব্যাংকের পাশাপাশি কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান স্বর্ণ ও স্বর্ণবার আমদানি করতে পারবে তা ঠিক করে একটি নীতিমালা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিমালার আলোকে স্বর্ণ আমদানির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। গতকাল এ-সংক্রান্ত নীতিমালা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। লাইসেন্সের জন্য ব্যাংক এবং অন্য প্রতিষ্ঠানকে প্রায় একই ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, স্বর্ণ আমদানির

জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গোল্ড ডিলার লাইসেন্স নিতে হবে। লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠান আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগে আবেদন করতে পারবে। আবেদনের সঙ্গে পাঁচ লাখ টাকার অফেরতযোগ্য পে-অর্ডারসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের নূ্যনতম মূলধন থাকতে হবে এক কোটি টাকা। স্বর্ণ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বুলিয়ান ভল্টের ব্যবস্থা থাকতে হবে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে ৭৫০ বর্গফুটের একটি অফিস থাকতে হবে। সব ধরনের নিয়ম মেনে লাইসেন্স পাওয়ার পরও একটি প্রতিষ্ঠান ঠিক মতো দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে কোনো ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই লাইসেন্স বাতিল করতে পারবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকের বাইরে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতা হিসেবে আরও বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে নিবাসী একক মালিকানাধীন, অংশীদারি প্রতিষ্ঠান কিংবা নিবন্ধিত লিমিটেড কোম্পানি হতে হবে। স্বর্ণবার ও স্বর্ণালঙ্কার সংরক্ষণ উপযোগী বুলিয়ান ভল্ট ও উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানটি লিমিটেড কোম্পানি হলে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন হবে কমপক্ষে এক কোটি টাকা। একক মালিকানাধীন বা অংশীদারি প্রতিষ্ঠান হলে আয়কর কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করা হালনাগাদ আয়কর বিবরণী অনুযায়ী কমপক্ষে এক কোটি টাকার নিট সম্পদ থাকতে হবে। আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানটিকে অবশ্যই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অনুমোদিত ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য হতে হবে। এছাড়া উন্নততর যোগাযোগসহ আরও কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে এ নীতিমালায়।

এতে আরও বলা হয়েছে, আবেদনের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির টিআইএন সনদপত্র, মূসক নিবন্ধন, বিআইএন সনদ, সংশ্নিষ্ট ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্যপদের কপি জমা দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক সচ্ছলতা সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের তফসিলভুক্ত ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সনদপত্র লাগবে। প্রতিষ্ঠানের মালিকদের উপযুক্ততা ও যথার্থতা বিষয়ে পুলিশ ছাড়পত্র, আবেদনকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ব্যাংকের গোপন প্রতিবেদন, আয়কর পরিশোধ প্রত্যয়নপত্র এবং ঋণ প্রতিবেদন দিতে হবে। প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে নিয়োজিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ছবিসহ জীবনবৃত্তান্ত দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে লাইসেন্স ইস্যুর পর দুই বছর পর্যন্ত তার মেয়াদ থাকবে। মেয়াদোত্তীর্ণের ৩ মাস আগে নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করতে হবে। লাইসেন্স নবায়ন ফি বাবদ প্রতিবার ২ লাখ টাকার অফেরতযোগ্য পে-অর্ডার দিতে হবে। ব্যাংকের ক্ষেত্রেও এ নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে।