কয়লা খনি দুর্নীতি মামলা খালেদা জিয়া অনুপস্থিত থাকায় শুনানি ফের পেছাল

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারপারসন কারাবন্দি খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি দুর্নীতির মামলার অভিযোগ (চার্জ) গঠনের ওপর শুনানি ফের পিছিয়েছে। আগামী ৯ এপ্রিল পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। ঢাকার ২ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এএইচএম রুহুল ইমরানের আদালতে গতকাল বুধবার শুনানির জন্য এ দিন ধার্য ছিল; কিন্তু কারা কর্তৃপক্ষ আসামিকে আদালতে হাজির না করে কাস্টডি (হাজতি পরোয়ানা) পাঠায়।

দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, সিনিয়র জেল সুপারের স্বাক্ষরিত কাস্টডিতে লেখা

হয়েছে, সংশ্নিষ্ট বন্দি আদালতে যেতে

অনিচ্ছুক। তিনি আদালতে বলেন, মামলাটি অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। আমরা মামলাটির শুনানি করতে চাই।

জবাবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ তালুকদার বলেন, খালেদা জিয়া খুবই অসুস্থ। এটা আদালত জানেন। তাছাড়া মামলার সংশ্নিষ্ট সব কাগজপত্র এখনও পাইনি। কাগজপত্র চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। মামলার আসামি খালেদা জিয়া ও ব্যারিস্টার আমিনুল হক আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানোর জন্য সময়ের আবেদন করেন মাসুদ তালুকদার।

এ দিন মামলার অপর আসামি সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তারাও অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য সময় চেয়ে আদালতে আবেদন করেন। দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতকে বলেন, অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন ধার্য রয়েছে। উচ্চ আদালতের আদেশও হাতে এসেছে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক সময়ের আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ৯ এপ্রিল পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি শাহবাগ থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি দুর্নীতি মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে ওই বছরের ৫ অক্টোবর পুলিশ তদন্ত করে ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দরদাতা কনসোর্টিয়াম অব চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশনের সঙ্গে (সিএমসি) বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লা উৎপাদন, ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি করায় রাষ্ট্রের প্রায় ১৫৮ কোটি ৭১ লাখ টাকার ক্ষতি হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।