আলুবীজের প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশ যাচ্ছেন ৪০ কর্মকর্তা

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০১৯

নাহিদ তন্ময়

দেশের দ্বিতীয় প্রধান খাদ্যশস্য হচ্ছে আলু। কিন্তু বেশিরভাগ কৃষক নিম্নমানের বীজ ব্যবহারের কারণে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাচ্ছেন না তার। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) বলছে, আলুর ফলনের ক্ষেত্রে মাত্র চার শতাংশ কৃষকের হাতে এই বীজ সরবরাহ করছে সরকার। বেসরকারি খাত থেকে বীজ পান এক শতাংশ কৃষক। এসব বীজের সঠিক সংরক্ষণ ও মান নির্ণয়ের সুযোগ থাকে বলে ফলনও হয় বেশ। কিন্তু ৯৫ শতাংশ চাষিই নিজেদের মতো করে সংরক্ষিত বীজ ব্যবহার করেন। এসব বীজআলুর অধিকাংশই সংক্রমিত থাকে।

মানসম্পন্ন বীজআলু উৎপাদন ও সংরক্ষণ এবং কৃষক পর্যায়ে বিতরণ বাড়াতে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা করছে সরকার।

'মানসম্পন্ন বীজ উৎপাদন ও সংরক্ষণ এবং কৃষক পর্যায়ে বিতরণ জোরদারকরণ' শীর্ষক প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে এমনটাই জানা যায়। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ১৮ হাজার কর্মকর্তার প্রয়োজন হবে। তাদের মধ্যে আলুর বীজ বিষয়ক প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশ যাবেন ৪০ কর্মকর্তা। ৮৭০ কোটি ৭২ লাখ ২২ হাজার টাকার প্রকল্পের কত টাকা এ খাতে খরচ হবে, তা খসড়া প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়নি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নেওয়া প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)।

যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (বীজ) আশুতোষ লাহিড়ী বলেন, 'কৃষকদের কাছে উন্নতমানের আলুবীজ নিশ্চিত করতেই এ ধরনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের আলু চাষ সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ এবং বীজ সংরক্ষণের বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো হবে।' তিনি বলেন, বর্তমানে কৃষক যে আলুবীজ ব্যবহার করছেন, তার মধ্যে মাত্র চার শতাংশ ভালোমানের বীজ সরকার তাদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় আরও বেশি পরিমাণ উন্নতমানের বীজ কৃষকের হাতে পৌঁছানো হবে।' এ ধরনের একটি প্রকল্পের আওতায় বীজ

বিষয়ক প্রশিক্ষণ নিতে ৪০ কর্মকর্তার নাম প্রস্তাবের যৌক্তিকতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আলু চাষে সরকার আরও ভালো কিছু করতে চায়। সেক্ষেত্রে যেসব দেশে আলুর ভালো ফলন হচ্ছে, তাদের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে বাস্তব ব্যবহার করলে অবশ্যই ভালো কিছু পাওয়া যাবে।'

প্রকল্পের আওতায় দিনাজপুর জেলার নশিপুরে বিএডিসির পাটবীজ খামার থেকে ৩০০ একর জমি নিয়ে একটি নতুন বীজআলু উৎপাদন খামার প্রতিষ্ঠা করা হবে। পুরনো দুটি খামারের ১৩১ একর জমির মান উন্নয়ন করা হবে। এ ছাড়া বিএডিসির ৩০টি হিমাগারে যন্ত্রপাতি সার্ভিসিং-ওভারহেলিং, হিমকক্ষের অভ্যন্তরের ইন্স্যুলেশন প্রতিস্থাপন ও পুরনো দুটি হিমাগার সংস্কার ও আধুনিকায়ন করা হবে। প্রকল্পের কার্যক্রম চালাতে তিনটি অফিস ভবন, একটি ডরমিটরি কাম ট্রেনিং সেন্টার, ২০ হাজার বর্গমিটার সটিং শেড, দুই হাজার মিটার সীমানা প্রাচীর, ৮০০ বর্গমিটার থ্রেসিং ফ্লোরসহ ইমপ্লিমেন্ট শেড, ফ্রেসিং ফ্লোর, গ্যারেজসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনা এবং তিন হাজার মিটার ব্যারিড পাইপ লাইন স্থাপন করা হবে। যানবাহনের তালিকায় রয়েছে একটি জিপগাড়ি, আটটি ডাবল কেবিন পিকআপ গাড়ি, ১০২টি মোটরসাইকেল, ৩৪টি ট্রাক, ৪১৪টি কৃষি এবং সেচ যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি এবং খুচরা যন্ত্রাংশ ক্রয়ের পরিকল্পনা। কেনা হবে ৮৩ লাখ ১১ হাজার চটের বস্তা এবং চার হাজার ত্রিপল।

বিএডিসির সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সারাদেশে প্রতি হেক্টরে দেড় টন হিসেবে মোট সাড়ে ৭ লাখ টন আলুবীজের প্রয়োজন। সরকারের আওতায় রয়েছে ৩০টি আলুবীজ হিমাগার। যেগুলোর মোট ধারণ ক্ষমতা ৪৫ হাজার ৫০০ টন। আলুবীজ সংরক্ষণে তাই সরকার আরও বেশি হিমাগার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে বাংলাদেশে প্রতি হেক্টরে ১৯-২০ টন আলু উৎপাদন হয়। কিন্তু একই পরিমাণ জমিতে ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাষ্ট্র ৪০-৪২ টন আলু উৎপাদন করে থাকে। এসব দেশে সরকারি উদ্যোগে মানসম্মত বীজ কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হয়।

বিএডিসির বিশেষজ্ঞরা জানান, আলুবীজ হলো কৃষির মৌলিক উপকরণ এবং ফসল চাষের একমাত্র জীবিত উপকরণ। অন্যান্য উপাদানের কার্যকারিতা বীজের ওপর নির্ভর করে। ভালো মানের বীজ একাই উৎপাদনের ২০ শতাংশ বাড়াতে পারে। সেজন্য বলা যায়, আলুর উৎপাদন বাড়াতে বীজের গুরুত্ব অনেক। আর তাই কৃষকের হাতে উন্নতমানের আলুবীজ পৌঁছালে এ শস্য ফলনে আরও সফলতা আসবে।