কিডনি রোগের লক্ষণ ও করণীয়

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০১৯

ডা. বাবরুল আলম

সহযোগী অধ্যাপক

নেফ্রোলজি বিভাগ

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি

লক্ষণ বুঝতে না পারার জন্য অনেকেই জানেন না যে তিনি ক্রনিক কিডনি রোগে ভুগছেন। যে কোনো স্টেজের জন্যই কিডনি রোগ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনই হচ্ছে এই রোগ নিরাময়ের মূল শক্তি। কিডনি রোগের লক্ষণগুলো সম্পর্কে ভালোভাবে ধারণা থাকলে সেই অনুযায়ী নিরাময়ের ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। কিডনি রোগ হলে এনার্জি কমে যাওয়া, অনেক বেশি ক্লান্ত অনুভব করা অথবা মনোযোগের সমস্যা হয়। কিডনির কর্মক্ষমতা যখন মারাত্মকভাবে কমে যায়, তখন রক্তে অপদ্রব্য হিসেবে টক্সিন উৎপন্ন হয়। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি দুর্বল ও ক্লান্ত অনুভব করেন এবং কোনো বিষয়ে মনোযোগ দেওয়াটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়া এনেমিয়া জটিলতা দেখা

দিতে পারে। রক্তস্বল্পতার কারণেও দুর্বলতা বা অবসাদগ্রস্ততার সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া ঘুমের সমস্যা হবে। ত্বক শুস্ক হতে পারে। এমনকি ত্বক ফেটেও যেতে পারে, সুস্থ কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ ও অতিরিক্ত তরল বের করে দেয়। একই সঙ্গে লাল রক্ত কণিকা তৈরি করে, হাড়কে শক্তিশালী করে এবং খনিজ লবণের ভারসাম্য রক্ষা করে। শুস্ক ও ফেটে যাওয়া ত্বক খনিজ ও হাড়ের অসুখের জন্যও হতে পারে, যা অ্যাডভান্স কিডনি রোগের সহগামী হিসেবে থাকতে পারে যখন কিডনি রক্তের পুষ্টি উপাদান ও খনিজ লবণের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে না। ঘন ঘন প্রস্রাব হবে। প্রায়ই মূত্রত্যাগের প্রয়োজন হয় বিশেষ করে রাতের বেলায়। এটা কিডনি রোগের লক্ষণ। যখন কিডনির ছাঁকনিগুলো নষ্ট হয়ে যায়, তখন প্রস্রাবের বেগ বেড়ে যায়। ঘন ঘন মূত্রত্যাগ ইউরিন ইনফেকশনেরও লক্ষণ হতে পারে, পুরুষের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট গ্লেন্ড বড় হয়ে গেলেও এই উপসর্গ দেখা দেয়। এ ছাড়া প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত গেলে, প্রস্রাবে বেশি ফেনা হলে, পায়ের গোড়ালি ও পায়ের পাতা ফুলে গেলে, মাংসপেশিতে খিঁচুনি হলে, বমি বমি ভাব, বমি হওয়া, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, সবসময় ঠা া অনুভব করা, মাথা ঘোরা, কোমর ও পায়ে ব্যথা হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককের শরণাপন্ন হোন, ইউরিন ও রক্ত পরীক্ষা করে আপনি কিডনি রোগে আক্রান্ত কি-না তা নিশ্চিত হোন, ভালো থাকুন।