বাফুফে সদস্য কিরণের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০১৯

আদালত প্রতিবেদক ও ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) কার্যনির্বাহী সদস্য ও নারী ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনসারী গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে দাখিলের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার রেফায়েতুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্যের অভিযোগে কিরণের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার আদালতে মানহানির মামলা

করেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবু হাসান চৌধুরী প্রিন্স। মামলাটি আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ৮ মার্চ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রীড়ামোদী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করেন মাহফুজা আক্তার কিরণ। কিরণের এমন বক্তব্য বিভিন্ন টেলিভিশন, জাতীয় দৈনিক ও অনলাইনে প্রকাশিত হয়। তার এমন বক্তব্যে বাদীর ৫০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে মর্মে আদালতে মামলাটি করা হয়।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের এই নারী সংগঠকের বিপক্ষে এর আগেও অনেক অভিযোগ উঠেছে। বছর দুই আগে বাংলাদেশ জাতীয় দল ভুটানে গিয়ে হেরে আসার পর মিডিয়ার সমালোচনা করে বলেছিলেন, 'জাতীয় ফুটবল দলের হারের সংবাদ নেতিবাচকভাবে প্রকাশ করেছে মিডিয়া। আর এ কারণেই স্পন্সর পাচ্ছে না ফুটবল। কোনটা লেখা উচিত আর কোনটা লেখা উচিত নয়, তা মিডিয়া জানে না।' তার ওই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদ সম্মেলন বয়কট করেন ক্রীড়া সাংবাদিকরা। ক্রীড়া সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো তাকে বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানাতে থাকে। শেষ পর্যন্ত সেটি করতে বাধ্য হন কিরণ। ২০১৭ সালে ফিফার কাউন্সিলর সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এক বিদেশি সাংবাদিক তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, বর্তমান নারী বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন কে? তখন যুক্তরাষ্ট্রের বদলে উত্তর দিয়েছিলেন কোরিয়া!

এ ছাড়া ফিফা ও বাফুফের টাকায় বিদেশ ভ্রমণের রেকর্ড গড়েছেন কিরণ। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের রিপোর্টে দেখানো হয়, গত ১০ বছরে দুই শতাধিকবার বিদেশ ভ্রমণ করেছেন তিনি। বিমানের বিজনেস ক্লাস ছাড়া ভ্রমণ করেন না, যার বিল বাবদ এক বছরে দেড় কোটি টাকার বেশি খরচ হয়েছে বলে ওই রিপোর্টে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাফুফে কর্মকর্তা। ভারত, ইংল্যান্ড, মানামা, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, কাতার, আরব আমিরাত, তুরস্ক, সুইজারল্যান্ড, রাশিয়া, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডসে গেছেন একাধিকবার। ওই কর্মকর্তা আরও জানান, তার ব্যাপারে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের কাছে বহুবার বহুজন অভিযোগ করেও কিছু করতে পারেনি। নিজেকে বাংলাদেশ নারী ফুটবলের পথিকৃৎ দাবি করা কিরণের তত্ত্বাবধানে গত ছয় বছর দেশে কোনো নারী ফুটবল লীগ বা টুর্নামেন্ট হয়নি। এএফসি থেকে তিনি নিজেই নাকি অর্থ এনে দেশে নারী টুর্নামেন্ট আয়োজন করে থাকেন। অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৮ সাফজয়ী নারী দল বিদেশ থেকে ট্রফি জিতে আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে কিশোরীদের সংবর্ধনা ও অর্থ পুরস্কার দিয়েছেন। সেই সুবাদে কিরণও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। যে প্রধানমন্ত্রী তার বিভিন্ন বক্তৃতায় এগিয়ে যাওয়ার উদাহরণ দিতে গিয়ে নারী ফুটবলারদের কথা বলে থাকেন, অথচ তার নারী ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কিরণ কী করে বিরূপ মন্তব্য করতে পারেন, সে বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ফুটবল-সংশ্নিষ্টরা।