বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক

জোটকে প্রাধান্য না দিয়ে দল গোছানোর সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটকে প্রাধান্য না দিয়ে দল গোছানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা। তারা মনে করছেন, দলের রাজনীতি এখন অনেকটাই জোটকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। এ থেকে বের হতে হবে। এর জন্য নিজেদের মেধা, শ্রম ও অভিজ্ঞতা দিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করার বিষয়ে তারা একমত পোষণ করেছেন।

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গতকাল বুধবার রাত ৭টা থেকে আড়াই ঘণ্টার বৈঠকে দলের বর্তমান অবস্থা বিশ্নেষণ করেন নেতারা। এ সময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্কাইপির মাধ্যমে বৈঠকে সংযুক্ত হয়ে সবার বক্তব্য শোনেন। বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও জামায়াত ইস্যুকে প্রাধান্য দিয়ে নেতারা তাদের মতামত তুলে ধরেন। এর বাইরে ডাকসু নির্বাচন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও মামলা প্রসঙ্গেও নেতারা বক্তব্য রাখেন।

নেতাদের বক্তব্যের সারমর্ম তৈরি করে দুই-এক দিনের মধ্যে তারেক রহমানকে পাঠানোর জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বৈঠকে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ সারমর্ম তৈরি করবেন।

বৈঠকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতার সমালোচনা করে বলেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত ঠিক না ভুল ছিল, তা ইতিহাস বলবে। ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা প্রধানমন্ত্রী হবেন- এই আশায় নির্বাচনের পরিকল্পনা ও বাস্তবতাকে বাদ দিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন। আক্ষেপ করে তিনি বলেন, তখন ওই নেতাকেই শীর্ষ নেতা হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত ছিল। কারণ বিএনপির নেতাদের

মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে তার সিদ্ধান্তেই নির্বাচনে যাওয়া হয়েছিল।

স্থায়ী কমিটির ওই সদস্য আরও বলেন, এখন নির্বাচন শেষ। এতে যা অর্জন হওয়ার তা হয়েছে। এখন 'ঐক্যফ্রন্ট রাজনীতি' বন্ধ করে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। দলকে গোছাতে হবে। সারাদেশে সাংগঠনিক তৎপরতা বাড়াতে হবে।

অপর একজন নেতা জামায়াত প্রসঙ্গে বলেন, খালেদা জিয়া জামায়াতের সঙ্গে জোট করেছেন। জাতীয় নির্বাচনে জামায়াত-বিতর্কের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এসব প্রচারণা চালানো হয়েছে। একটি দেশের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই দেশটি নানা অজুহাতে বিএনপিকে নসিহত করলেও তারা আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে কখনও কিছু করবে না। তাই জামায়াত বিষয়ে সরকার কোনো কিছু না করলে বিএনপির পক্ষ থেকেও কিছু করা ঠিক হবে না।

নেতাদের বক্তব্যের একপর্যায়ে তারেক রহমান বক্তব্য রাখেন। তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতা ছাড়াও জেলা পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর জন্য পরামর্শ দেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবীর সঙ্গেও নিজেদের সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়ে পরামর্শ দেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।