চট্টগ্রামে বহিস্কারের খড়গ মাথায় মাঠে পাঁচ বিদ্রোহী

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০১৯     আপডেট: ১৪ মার্চ ২০১৯

শৈবাল আচার্য্য, চট্টগ্রাম

উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে আগামী ২৪ মার্চ চট্টগ্রামের ৬ উপজেলায় ভোট গ্রহণ হবে। এ নির্বাচন সামনে রেখে বহিস্কারের খড়্‌গ মাথায় নিয়ে ভোটের মাঠে প্রচারণা চালাচ্ছেন আওয়ামী লীগের পাঁচ বিদ্রোহী প্রার্থী। দল মনোনীত নৌকার প্রার্থী থাকার পরও চট্টগ্রামের পাঁচ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে থাকা পাঁচজন। অথচ দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে বহিস্কারের পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি করে চিঠিও দেওয়া হয়েছে তাদের। এসব বিদ্রোহী প্রার্থী দলীয় সিদ্ধান্তকে অমান্য করে এরই মধ্যে ছাপিয়েছেন পোস্টার। নিজ নিজ এলাকায় নিয়মিত করছেন প্রচারণাও। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হলেও পাঁচ বিদ্রোহী প্রার্থী প্রত্যাহার করেননি তাদের মনোনয়নপত্র। দলের মনোনয়ন পাওয়া চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কাছে 'মাথাব্যথার কারণ' হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব বিদ্রোহী।

বাঁশখালী উপজেলায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সুলতান উল কবির চৌধুরীর বড় ছেলে দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মুহাম্মদ গালিব সাদলী। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক খোরশেদ আলম। বোয়ালখালীতে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নুরুল আলমকে নৌকার প্রার্থী করেছে আওয়ামী লীগ। এই প্রার্থীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নির্বাচনে প্রচারণা চালাচ্ছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আবদুল কাদের

সুজন। চন্দনাইশ উপজেলায় দলীয় সিদ্ধান্তে নৌকার প্রার্থী করা হয়েছে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি একেএম নাজিম উদ্দিনকে। তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নির্বাচনী মাঠে সরব আছেন বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল জব্বার চৌধুরী। পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরোধিতা করে দল থেকে বহিস্কৃত হন এলডিপির এই নেতা। পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি। লোহাগাড়া উপজেলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরীকে নৌকার প্রার্থী করা হয়েছে। নিজেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী দাবি করে নির্বাচনী মাঠে সরব রয়েছেন জিয়াউল হক চৌধুরী। এলডিপির এই নেতা আওয়ামী লীগের ব্যানারে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিতে ভিড়েছেন আওয়ামী লীগে। তার সঙ্গে স্থানীয় কিছু আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীও হয়েছেন যুক্ত। পটিয়া উপজেলায় মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী নৌকার টিকিটে প্রার্থী হলেও তার টেনশন বাড়িয়ে দিয়েছেন স্বতন্ত্র হিসেবে প্রার্থী হওয়া কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা মুহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন।

বোয়ালখালীতে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া আবদুল কাদের সুজন সমকালকে বলেন, 'হাইকমান্ড থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ায় আমি প্রার্থী হয়েছি। নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত আমি মাঠে থাকব। দল থেকে আমাদের একজন সিনিয়রকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু দল অনেক সময় মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে ভুল করে। এলাকায় আমার যথেষ্ট জনপ্রিয়তা আছে। তাই দলের মনোনীত নৌকার প্রার্থী থাকার পরও আমি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি।'

বাঁশখালীতে বিদ্রোহী প্রার্থী খোরশেদ আলম সমকালকে বলেন, 'আমাদের পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, নৌকা প্রতীক না পেলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা যাবে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হলে তাকে সম্মানিত করার কথাও বলেছেন তিনি। নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত আমি মাঠে থাকব। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কোনো সুযোগ নেই।'

আওয়ামী লীগের উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সমকালকে বলেন, 'দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো কর্মীর পক্ষে দলের বাইরে গিয়ে কাজ করার সুযোগ নেই। দলীয় প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের বর্ধিতসভা করে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এরপরও কোনো প্রার্থী সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে বহিস্কারসহ তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, 'দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। বিরোধিতা করলে কঠিন শাস্তি পেতে হবে। দল কোনো বিদ্রোহী প্রার্থীকে সবুজ সংকেত দেয়নি। এটা নিয়ে তারা এক ধরনের গেম খেলছে। প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিতে পাঁচ বিদ্রোহী প্রার্থীকে চিঠি দিয়েছি আমরা।'