কদমতলীতে কবির হত্যা

প্রধান আসামি কামাল ১০ বছর পর গ্রেফতার

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

প্রধান আসামি কামাল ১০ বছর পর গ্রেফতার

গ্রেফতার কামাল - সংগৃহীত

অস্ত্র মামলায় প্রায় সাড়ে চার বছর জেল খেটে ২০০৯ সালে জামিনে বের হয় কামাল হোসেন ওরফে টিকটিকি কামাল। তবে নিজেকে শুধরে নেওয়ার বদলে সে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। জামিনের এক মাসের মধ্যেই রাজধানীর কদমতলীতে কবির হোসেন নামে এক যুবককে গুলি করে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান কবির। এর পর থেকে কামাল পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। অবশেষে সেই ঘটনার ১০ বছর পর মঙ্গলবার বিকেলে কদমতলীর জুরাইন থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পিবিআই ঢাকা মহানগর অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ সমকালকে জানান, ওই ঘটনায় নিহতের বড় ভাই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। কদমতলী থানা পুলিশ তদন্ত শেষে মূল আসামি কামাল হোসেনকে পলাতক দেখিয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য ডিবিকে নির্দেশ দেন। ডিবিও তদন্ত শেষে অনুরূপ অভিযোগপত্র দাখিল করলে আদালত তদন্তভার দেন পিবিআইকে। পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদারের দিকনির্দেশনায় শেষ পর্যন্ত পলাতক আসামি কামালকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়।

পিবিআই সূত্র জানায়, কদমতলীর ২১ নম্বর রজ্জব আলী সরদার সড়কের একটি ভাড়া বাসায় একা থাকতেন কবির হোসেন। ২০০৯ সালের ১৭ জুন তার পরিবারের সদস্যরা খবর পান, মুরাদপুর মাদ্রাসা রোডের শ্যামবাবুর ট্রাকের গ্যারেজের সামনে কেউ কবিরকে গুলি করেছে। কদমতলী

থানায় গিয়ে তারা আরও জানতে পারেন, একটি কালো রঙের মোটরসাইকেলে কবিরসহ মোট তিনজন ঘটনাস্থলে যান এবং পূর্বশত্রুতার জের ধরে অপর দু'জন তাকে হত্যা করে। আসামিরা ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেলটি ফেলে যায়।

কামালকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পিবিআই ঢাকা মহানগর অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার বশীর আহমেদ জানান, ২০০৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর অস্ত্রসহ গ্রেফতার হয় কামাল। তার বিরুদ্ধে ডেমরা থানায় অস্ত্র মামলা হয়। বিচার শেষে তাকে ১০ বছরের সাজা দেন আদালত। ওই মামলায় ৪ বছর ৫ মাস জেল খেটে ২০০৯ সালে

জামিনে মুক্ত হয় কামাল। এর এক মাসের মধ্যেই সে এলাকায় প্রভাব বিস্তারসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির পথ সুগম করতে কবির হোসেনকে শ্যামবাবুর ট্রাকের গ্যারেজে ডাকে। সেখানে কামাল, রাসেল ওরফে রাজাকার রাসেল, লিটন ও জসিম উদ্দিন ওরফে দোহানের সঙ্গে কবিরের বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে লিটন তার শার্টের কলার ধরে এবং কামাল তার সঙ্গে থাকা পিস্তল বের করে কবিরের কাঁধে গুলি করে।