খোলা জায়গায় সার মজুদ বৃষ্টিতে পরিবেশ বিষাক্ত

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০১৯

হাসান হিমালয়, খুলনা

খোলা জায়গায় সার মজুদ বৃষ্টিতে পরিবেশ বিষাক্ত

খুলনা রেলওয়ে কলোনিতে খোলা জায়গায় মজুদ করা হয়েছে ইউরিয়া সার। বৃষ্টিতে তা গলে পড়ছে - সমকাল

খুলনায় রেলওয়ের আবাসিক কলোনির ফাঁকা জায়গায় ইউরিয়া সার মজুদ করেছেন প্রভাবশালীরা। এরই মধ্যে এসব সার বৃষ্টিতে গলে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিষাক্ত হয়ে উঠেছে কলোনির পরিবেশ। শ্বাসকষ্টে ভুগছেন শিশু-বৃদ্ধসহ বাসিন্দারা। ভেজা সার লেগে অনেকের পায়ে ফুসকুড়ির মতো দেখা যাচ্ছে।

রেলওয়ের কর্মচারীরা জানান, ঘাট এলাকায় রেলের আবাসিক কলোনিতে দুই শতাধিক কোয়ার্টার রয়েছে। কোয়ার্টারের সামনের অংশে ঘর তুলে ভাড়াও দিয়েছেন অনেকে। সে হিসেবে কলোনিতে বাস করে প্রায় আড়াই হাজার পরিবার। মাসখানেক আগে থেকে সেখানে সার মজুদ করা শুরু করেন ঘাট শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা। প্রথম দিকে শুধু হাঁটাচলায় সমস্যা হতো। কিন্তু বৃষ্টির কারণে অনেক সার গলে গেছে। সেখান থেকেই দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।

গত রোববার রেল কলোনি ঘুরে দেখা যায়, রেললাইনের পাশেই উঁচু করে সার মজুদ করে রাখা হয়েছে। কলোনির ভেতরে ফাঁকা জায়গায়ও বড় স্তূপ করে সার মজুদ করা হয়েছে। কিছুদিন আগে হওয়া বৃষ্টিতে সেই সার গলে চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্গন্ধে ওই এলাকা দিয়ে হাঁটাই কষ্টকর। যারা সেখানে বাস করছেন, তাদের অবস্থা দুর্বিষহ।

কলোনি ঘুরে দেখার সময় সাংবাদিক পরিচয় জানার পর সেখানকার বাসিন্দারা ঘিরে ধরে নানা অভিযোগ করতে থাকেন। ৬ নম্বর ডাবল কোয়ার্টারের বাসিন্দা নাসিমা বেগম সমকালকে বলেন, সারের দুর্গন্ধে চোখ দিয়ে পানি পড়ে। ছেলের শ্বাসকষ্ট দেখা দেওয়ায় শিশু হাসপাতাল থেকে ডাক্তার দেখিয়ে নিয়ে এসেছি। বাড়ির মুরব্বিদেরও একই সমস্যা হচ্ছে। কলোনির পাশের গলির নাজমা বেগম বলেন, দুর্গন্ধে রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না, ঘরের ভেতরে কীভাবে থাকি, চিন্তা করেন। ভেজা সারের ভেতর দিয়ে একদিন হেঁটেছি, এর পর থেকে পায়ে ঘা দেখা দিয়েছে। এখানকার বেশিরভাগ বাচ্চারই পায়ে ঘা হয়েছে। রেলের কর্মচারী ও কলোনির বাসিন্দা আবুল

হোসেন বলেন, কষ্টের কথা কয়েক দিন আগে এলাকার কাউন্সিলর ও মেয়রকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এভাবে চলতে থাকলে কলোনি ছেড়ে চলে যেতে হবে।

স্থানীয়রা জানান, কলোনির ভেতরে সার মজুদ করার কোনো নিয়ম নেই। কার্গোতে করে সার এনে সরাসরি গুদামে রাখার কথা। কিন্তু গুদামে না রেখে পরিবহন ঠিকাদার ও শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা সার খোলা জায়গায় মজুদ করেন। এতে তাদের গুদাম ভাড়া বেঁচে যায়। নিজেরা লাভবান হওয়ার জন্য শত শত মানুষকে স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে ফেলছেন।

স্থানীয়রা আরও জানান, গতকাল বুধবার উন্মুক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা সার কলোনির একটি গরু খেয়ে ফেলে। আধা ঘণ্টা পর মুখ থেকে ফেনা উঠে গরুটি মারা যায়। স্থানীয় ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শামসুজ্জামান মিয়া স্বপন বলেন, গরুটি রেল কলোনির মাছ বিক্রেতা রফিকের। গরুটি মারা যাওয়ার পর ওরা এসে অনেক কান্নাকাটি করেছে। ওখান থেকে সার সরাতে রেলের কর্মকর্তাদের বলেছি। তারা কথা শুনছেন না।

রেল কোয়ার্টার তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন খুলনা স্টেশনের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান। সমকালকে তিনি বলেন, আমার অফিসের সামনেও সার মজুদ করেছে। বারবার বললেও তারা শুনতে চায় না। দ্রুত সার সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

খুলনা বিসিআইসির সার পরিবহন ঠিকাদার ইসমাইল খান বলেন, পরিবহন সুবিধার জন্য রেললাইনের পাশে সার রাখা হয়েছে। এরপর রেলকে ওয়াগন ভাড়া দিতে বারবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রেল সেটা দিতে পারেনি। এ জন্য সার সেখানেই রয়ে গেছে। ওয়াগন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সব সার সরিয়ে নেওয়া হবে।