আইন-শৃঙ্খলা সভা শেষে ইউপি চেয়ারম্যান আটক

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০১৯      

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদে মাসিক আইন-শৃঙ্খলাবিষয়ক সভায় যোগদান শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার আলী হায়দার স্বপন নামে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে আটক করেছে পুলিশ। তিনি সদর উপজেলার পশ্চিম আব্দালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আটকের এক ঘণ্টার মধ্যেই পাশের ইউনিয়নের একটি নাশকতা মামলায় সন্দেহজনক আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ইবি থানার ওসি রতন শেখ ব্যক্তিগত আক্রোশে উপজেলা চত্বর থেকে জোরপূর্বক ধরে মিথ্যা মামলায় চালান দিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানিয়েছে, দুপুর ১টার দিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভা শুরু হয়। সেখানে আলী হায়দার স্বপনসহ ১৪টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা অংশ নেন। সভা শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ শেষে তিনি নিচে নামেন। তার সঙ্গে নেমে আসেন ইবি থানার ওসি রতন শেখও। নিচে নেমে কয়েক পা হাঁটার পর কয়েকজন সাদা পোশাকধারী ব্যক্তি জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করলে চেয়ারম্যান বাধা দেন। পরে তাকে টেনেহিঁচড়ে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় পাশেই ওসি রতন শেখ দাঁড়িয়ে ছিলেন।

চেয়ারম্যানকে আটক করে পুলিশ লাইন্সের ডিবি অফিসে বসিয়ে রেখে আধাঘণ্টার মধ্যেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পাশের উজানগ্রাম ইউনিয়নে মারামারি সংক্রান্ত একটি মামলার সন্দেহজনক আসামি হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। যে মামলায় চেয়ারম্যান স্বপনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে একই মামলায় উজানগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অনেক নিরীহ লোকজনকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাও জেলে আছেন একই মামলায়। মামলাটির বাদী ইবি থানার এসআই বাবুল হোসেন।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুবায়ের হোসেন চৌধুরী বলেন, বৃহস্পতিবার সভা ছিল। আব্দালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হায়দার স্বপনও উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে তিনি বের হওয়ার পর কিছু লোক তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ডিবি পুলিশ তাকে আটক করেছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছি।

কুষ্টিয়া গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পুলিশের ওসি সিকদার আক্কাস আলী বলেন, উজানগ্রাম ইউনিয়নের একটি মারামারির মামলায় সন্দেহজনক আসামি হিসেবে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

আলী হায়দার স্বপনের বাবা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা। তিনি বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা। তার আরেক ভাই জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি।

চেয়ারম্যানের পরিবারের লোকজন অভিযোগ করে বলেন, সম্প্র্রতি এলাকার তিনটি হাট সরকারকে বেশি রাজস্ব দিয়ে ডেকে নেন স্বপন চেয়ারম্যানের লোকজন। ওসি রতন শেখের অনুগত কয়েকজন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতা হাট না পাওয়ায় চেয়ারম্যানের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হন তিনিসহ আওয়ামী লীগের একটি অংশের নেতারা। ওই নেতাদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে ব্যক্তিগত আক্রোশে ওসি উপজেলা চত্বর থেকে ধরে এনে মিথ্যা মামলায় চালান দিয়েছেন।

স্বপনের বাবা আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ইসহাক আলী মাস্টার বলেন, পাশের ইউনিয়নের একটি মিথ্যা মামলায় আমার ছেলেকে আটক করে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে। ওসি ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে আমার ছেলেকে আটক করে মামলা দিয়েছেন। এর সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইবি থানার ওসি রতন শেখ বলেন, তার সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। পাশের ইউনিয়নের একটি মামলায় জড়িত সন্দেহে আটক করেছে পুলিশ। তারা যে অভিযোগ করছে তা ভিত্তিহীন।